বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০


বরুড়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তিনজনের উপর হামলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.05.2020

বরুড়া প্রতিনিধি ।।
কুমিল্লা জেলার বরুড়া পৌরসভার পুরান কাদবা গ্রামে মাদক সেবনে প্রতিবাদ করায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তিনজনকে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। এ নৃশংস ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কাছে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিচার দাবী করে অসহায় ভূক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ মিয়া সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার (১১ মে) দুপুর ২টার দিকে বরুড়া প্রেসকøাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী রায়হান গং বরুড়া পৌরসভার পুরান কাদবাসহ বরুড়া উপজেলার চুরি, ছিনতাই ও মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট চক্রের সক্রীয় সদস্য। তারা করোনার মতো মহামারির মধ্যেও নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় কিছুদিন পূর্বে রায়হান গং মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ মিয়ার ছেলে নাসিরের জমির সবজি ক্ষেতে একটি মাছার উপর মাদক সেবন করার জন্য সরঞ্জাম রাখে। তার দুই নাতি সাকিব ও রাকিব দেখে ফেলায় উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়হান গং এর সাথে কথা কাটাকাটি হয়।এসময় তারা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করে।
এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (০৯ মে) রাত অনুমান ১২. ৪৫ মিনিটের সময় বসত ঘরের দরজা লাথি মেরে খুলে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নাসির উদ্দিন ও তার নাতি সাকিবুল হাসান এবং রাকিবকে পুরান কাদবা গ্রামের ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রায়হান ও মোঃ রনির নেতৃত্বে একই এলাকার শাহজানের ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (২০) ও আবুল খায়েরের ছেলে মোঃ রবিউল আলম (২৫) সহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী কুমিল্লা থেকে এ্যাম্বুলেন্সে আসিয়া, ধারালো চাপাতি, ছেনি ও রামদা দিয়ে হাতে, পিটে ও পেটেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করে। পরে তাদের শোর চিৎকার শুনিয়া প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হত্যা চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে সন্ত্রাসীরা মুহুর্তের মধ্যে এ্যম্বুলেন্স নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত নাসির উদ্দিন ও তার দুই ছেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি না রেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করে। পরে তাদের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেন। বর্তমানে সবাই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এঘটনায় মন্তাজ মিয়া বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বীর-মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ মিয়া জানান, সন্ত্রাসীরা মামলা উঠিয়ে নিতে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি, ধমকি প্রদান করিতেছে। এমতাবস্থায় আমি একজন অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। আমার এ দুঃসমেয় সাংবাদিকদের সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কুমিল্লা পুলিশ সুপারের প্রতি বিনীত আবেদন করছি, যে সকল সন্ত্রাসীরা আমার ছেলে ও নাতিদের উপর হত্যার চেষ্টা হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। এ ব্যপারে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়–য়া জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা নিয়েছি। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অভ্যাহ রয়েছে।