বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০


হাঁটু ব্যথার চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরীর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.05.2020

স্টাফ রিপোর্টার॥
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজারের কথিত চিকিৎসক সফিউল আলমের ভুল চিকিৎসায় সালমা আক্তার মজুমদার (১৫) নামে এক কিশোরীর অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পহেলা মে ভোর রাত সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সোমবার ওই কিশোরীর বাবা শহীদুল ইসলাম মজুমদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেন।
কিশোরীর পরিবার জানায়, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশের দোলনায় চড়তে গিয়ে গাছের সাথে হাঁটুর ধাক্কা লাগে সালমার। এরপরই ব্যাথার কারনে হাটতে সমস্যা দেখা দিলে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় রাজাপুর বাজারের কথিত চিকিৎসক ডা. সফিউল আলমের চেম্বারে নেয়া হয় তাকে। কিন্তু কোনো রকম এক্স-রে বা পরীক্ষা নিরিক্ষা না করিয়েই ডা. সফিউল্লা প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে ওষুধ দেয়। যা সেবনের পর থেকেই তার শরীরে ফোসকা পড়তে শুরু করে। অন্যদিকে পায়ের ব্যাথাও বাড়তে থাকে। এভাবে চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১ মে শুক্রবার পাশ্ববর্তী কাশিনগর বাজারের ফাস্ট এইড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাৎক্ষনিক এক্স-রে করিয়ে জানান সালমার হাঁটুর হাড় (আংশিক) ফেটে গেছে। ফাস্ট এইড হাসপাতাল সালমার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধপত্র দিলেও তা সেবন করার আগেই মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সালমার বাবা শহীদুল হক মজুমদার। সালমার এমন অকাল মৃত্যুতে যেখানে শোকে কাতর পরিবার সেখানে ডা. সফিউল্লা মৃত্যুুর পর থেকেই চেম্বার ছেড়ে আড়ালে গিয়ে লোক মারফতে বলছেন অন্য কোনো কারণে সালমার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাজার পরিচালনা কমিটি বরাবর অভিযোগ দিতে চাইলেও ডা. সফিউল্লা পলাতক থাকায় কোনো সুরাহা করা যায়নি বলে জানান সালমার মামা মো. শাহীন।
স্থানীয়ভাবে কি সুরাহা করতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নে শাহীন বলেন, আমি আমার ভাগ্নির এমন মৃত্যুর জন্য কথিত ডা. সফিউল্লাকেই দায়ী করছি। কারণ ডা. সফিউল্লা যেসব ওষুধ লিখেছে প্রেসক্রিপশনে তা অন্য চিকিৎসকদের দেখালে তারা জানান এসব ওষুধ ১৫ বছর বয়সী কোনো শিশুকে সেবন করালে তার এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যু অস্বাভাবিক কিছু নয়। এরকম ভুল ওষুধ ও ইঞ্জেকশন প্রয়োগে পূর্বেও তার হাতে দুটি শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয়ভাবে বসে তাকে আমাদের এই অঞ্চলে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চিকিৎসার নামে মানুষ হত্যার ঘটনা যাতে আর ঘটাতে না পারে। কিন্তু পলাতক থাকায় তা সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও ডা. সফিউল্লার পলাতক থাকায় আমরা স্থানীয় প্রশাসনের ধারস্থ হয়েছি বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ওষুধসমূহ দেখে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সূত্র জানায়, ডা. সফিউল্লা যেসব ওষুধ লিখেছে তা সে লিখতে পারে না। কারণ তার কোন সনদ নেই।

এ বিষয়ে ডা. সফিউল্লার সাথে কথা বলতে চেয়ে চেম্বারে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মুঠোফোনে বলেন, তার মেয়ে অসুস্থ তাকে দেখাতে ডাক্তরের চেম্বারে রয়েছেন। পরে কথা বলবেন বলে তিনি লাইন কেটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আসলে এটি তো ফৌজদারী অপরাধ তাই আমি অভিযোগকারীকে মামলা করতে পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়াও অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাসিবুর রহমান বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।