বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » চান্দিনায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা


চান্দিনায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.05.2020

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা ।।
সাধারণ ছুটির কারণে সরকারি, বে-সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে সেবা নিতে পারছে সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোই নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চান্দিনা উপজেলায় জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকের শাখা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলায় এপর্যন্ত মোট ১২ জন করোনা ভাইরাস পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। চান্দিনাকে ’রেড জোন’ ঘোষণা করে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এই রেড জোন ঘোষিত এলাকায়ও মানুষের অর্থনৈতিক লেন-দেন ও চাহিদা মিটাতে জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ব্যাংক এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সাধারণ ছুটির মধ্যে প্রতি মাসে ১০ দিন সেবা প্রদান করলে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিলো তা এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নেয়নি ব্যাংকগুলো। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও তাদের কোন লাভ হচ্ছে না।
সরেজমিনে মঙ্গলবার জনতা ব্যাংক লিমিটেড চান্দিনা সমবায় কর্পোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বিদেশিদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ লাইন ধরে ব্যাংকে সেবা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় জনতা ব্যাংক লিমিটেড চান্দিনা সমবায় কর্পোরেট শাখার ইন-চার্জ ও ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম নিজেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে গ্রাহকদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া বাইরে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে সেবা নিতে অনুরোধ করে যাচ্ছেন ব্যাংকের নিরাপত্তকর্মী ও আনসার সদস্যরা।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড চান্দিনা সমবায় কর্পোরেট শাখার ইন-চার্জ ও ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চান্দিনার বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লেন-দেন রয়েছে এই শাখায়। এছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারিদের মাসিক বেতন, বোনাস ও ভাতা, বিদেশি রেমিটেন্স ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা।
গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকে গ্রাহকরা প্রবেশ করলেই তাদেরকে হ্যান্ড সেনিটাইজার স্প্রে করা হয়। আমরা নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করে লেন-দেন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেছি।
সোনালী ব্যাংক চান্দিনা শাখায় ব্যবসায়ীক লেন-দেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পেনশন সুবিধা ভোগীদের সেবাসহ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন মানুষ। একই ভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের শাখাগুলো।
এদিকে চান্দিনায় বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ শাখাই বন্ধ রয়েছে। ওই ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা এবং সুবিধাভোগীরা বেকয়দায় রয়েছেন। ব্র্যাক ব্যাংক চান্দিনা শাখা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মে মাসের শুরুতে কয়েকদিন খোলা ছিলো। ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক সপ্তাহে দুই দিন খোলা রাখছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক সপ্তাহে পাঁচদিনই খোলা রাখা হচ্ছে।
এব্যাপারে ব্র্যাক ব্যাংক চান্দিনা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাহামুদুন্নবী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী অনলাইন ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা বাই রোটেশন বন্ধ ও চালু রাখার নিয়ম রয়েছে। আমাদের ব্যাংক সম্পূর্ণ অনলাইন বেইজড। ফলে যে কোন শাখা থেকে গ্রাহক তার চাহিদানুযায়ী কার্যক্রম বা সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, চান্দিনা শাখা গত সপ্তাহে দুই দিন খোলা ছিলো। চলতি সপ্তাহে রেড জোন ঘোষণার কারণে বন্ধ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবার খোলা রাখা হবে।