রবিবার ২০ †m‡Þ¤^i ২০২০


দেবিদ্বারে ৩৫জনসহ কুমিল্লায় একদিনেই আক্রান্ত ৪৯


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.05.2020

স্টাফ রিপোর্টার ।।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ৩৫জনসহ আজ বৃহস্পতিবার এক দিনেই কুমিল্লায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ জন। এই নিয়ে দুইশ ঘর অতিক্রম করে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২২০ জনে। কুমিল্লায় করোনার ভয়াভহ অবস্থায় জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে আতংক। এক দিনেই রেকর্ড পরিমান আক্রান্ত হলেও সুস্থ নেই একজনও। কুমিল্লা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.মো. শাহাদাত হোসেন এ কথা নিশ্চিত করেছেন। চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যে করোনায় কুমিল্লা কেন ভয়াভহ অবস্থা জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, নারায়নগঞ্জ ফেরত ঐ ব্যবসায়ী যখন আক্রান্ত হয়ে দেবিদ্বারে আসে তখনি যদি দেবিদ্বারকে পুরাপুরি লকডাউন করা যেত তাহলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা আজ এত বিস্তৃত ঘটত না। আমরা প্রশাসনিক ভাবে দেবিদ্বারকে কার্যকর লকডাউন করতে পারিনি।
জানা যায়, দেবিদ্বারের ১১ গ্রাম বাজার সংলগ্ন মুগসাইর নামক একটি গ্রামে একদিনই আক্রান্ত ১৫জনসহ এই উপজেলায় বৃহস্পতিবার মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ জনে। এর মধ্যে তিন জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। অপর উপজেলার আক্রান্ত গুলোর মধ্যে রয়েছেন, দাউদকান্দি ২, চান্দিনা ২, হোমনা ১, ব্রাহ্মণপাড়া ৩, বুড়িচং ১, মুরাদনগর ৩,লালমাই ১ এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১ জন।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, এই পর্যন্ত কুমিল্লা থেকে মোট ৪২২৪ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ৪০১৪ জনের। পজেটিভ এসেছে ২১৯ জনের। মোট সুস্থ হয়েছে ৩৯ জন আর মারা গেছে ৯ জন।
এ দিকে, দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির জানান, গত বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান মুগসাইর গ্রামের ফল বিক্রেতা লিল মিয়া। রবিবার লিল মিয়ার পরিবার ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার দিবাগত রাতে এই ১৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। ওই গ্রামটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই দিন দেবিদ্বার থানার তিন পুলিশ সদস্য ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট ৩৫ জন এক দিনেই করোনায় আক্রান্ত হলেন।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির আরও জানান, করোনা শনাক্ত ৬১ জন ব্যক্তির মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন। ৩ জন দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন এবং বাকি ৫১ জন হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দেবিদ্বারে কেন আক্রান্তের সংখ্যা এত বেশী এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফল ব্যবসায়ী লিল মিয়া ফেনী থেকে তরমুজ আনতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তার থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যে করোনায় কুমিল্লা কেন ভয়াভহ অবস্থা জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, কুমিল্লায় প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় দেবিদ্বারে। নারায়নগঞ্জ ফেরত ঐ ব্যবসায়ী যখন আক্রান্ত হয়ে দেবিদ্বারে আসে তখনি যদি দেবিদ্বারকে পুরাপুরি লকডাউন করা যেত তাহলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা আজ এত বিস্তৃত ঘটত না। আমরা প্রশাসনিক ভাবে দেবিদ্বারকে কার্যকর লকডাউন করতে পারিনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আরো বলেন, এখনো সময় আছে, কুমিল্লা জেলা থেকে দেবিদ্বারকে পুরাপুরি বিচ্ছিন্ন করা। নতুবা সামনে আমাদের জন্য আরো ভয়াভহ অবস্থা অপেক্ষা করছে