সোমবার ১ জুন ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » উদ্যোগের দুইমাসেও কুমিল্লায় চালু হয়নি আইসিইউ


উদ্যোগের দুইমাসেও কুমিল্লায় চালু হয়নি আইসিইউ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.05.2020

মাসুদ আলম।।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালকে করোনায় সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় গঠিত জেলা কমিটির বেশ প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে বাস্তবিক অর্থে কবে চালু হবে করোনা হাসপাতাল? তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে। একটি করোনা হাসপাতাল শুরু করতে গেলে প্রধান যে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন সেটি হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। কিন্তু কাঙ্খিত সেই আইসিইউ এখনও স্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটি স্থাপনের। এরপর দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই আইসিইউ আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে। তাই আইসিইউ স্থাপনের জন্য কুমেক হাপাতালের কর্তৃপক্ষ নতুন উদ্যোগে দুইমাস অতিক্রম করলেও এখনও খবর নেই। সংকট রয়েছে এপিজি মেশিনের। এই যন্ত্রাংশের সংকটের কারণে আইসিইউ এর কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, একটি আইসিইউ স্থানের জন্য ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন, বেডসহ যে সরঞ্জাম প্রয়োজন তার ৯০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী মাত্র একটি এপিজি মেশিন। করোনা সংক্রমিত সংকটাপন্ন বা গুরুতর অবস্থার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ইতোমধ্যে ২০টি ভেন্টিলেটর, সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন ও পর্যাপ্ত বেডের কারিগরি সকল কাজ সম্পূর্ণের পথে। আগামী রবিবারের মধ্যে আইসিইউ স্থানের সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে ঈদের আগে না হলেও ঈদের পর পরই কুমেক হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চালু করা যাবে।
এদিকে কুমেক হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকলেও আইসিইউ পরিচালনা বা রোগীদের পরিচর্যায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সের অভাব রয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য গুণগতমানের পিপিই এবং মাস্কের সংকটের দাবি করছেন কিছু চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের দাবি পর্যাপ্ত পিপিই এবং মাস্ক পেলেও সেগুলোর অধিকাংশ গুণগতমানে নয়।
এবিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, করোনা হাসপাতালের জন্য সংক্রমিত রোগীদের সেবাপ্রদানে কোন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নেই। তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পিপিই এবং মাস্কসহ সকল ধরণের সরঞ্জাম রয়েছে। তবে গুণগতমানের দিক দিয়ে একটু সংকট রয়েছে। এ সমস্যা বিশে^র উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও রয়েছে।
অন্যদিকে করোনা মোকাবেলায় গঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে করোনা হাসপাতাল ঘোষণার পর কোন সাধারণ রোগী কুমেক হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবেন না। বন্ধ করে দেয়া হবে নগরীর টমছম ব্রিজ এবং চাঁপাপুর এলাকা দিয়ে এর প্রবেশ পথ। স্থান পরিবর্তন করে কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে গাইনি ও ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের রোগীদের। সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি থেকে নিউরোলজি এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগের কিছু রোগীদের কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (টাওয়ার) এবং ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাসেবার জন্য পাঠানো হবে। বহির্বিভাগের রোগীদের এলাকা ভিত্তিক কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ এবং ময়নামতি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা সেবা নিবেন। এছাড়া সাধারণ রোগীরা নগরীর বড় বড় হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে চিকিৎসা নিবেন। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে।
কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী জানান, মেডিকেল যেভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে, সেই সেবা কি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দিবে? তারা টাকা ছাড়া রোগীও ধরে দেখে না। ওইগুলো হচ্ছে বড় লোকের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য নয়।
চিকিৎসা সেবা নিয়ে কুমিল্লার মানবাধিকার সংগঠক আলী আকবর মাসুম জানান, শুধু কুমেক হাসপাতাল নয়, সারাদেশেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক ধরণের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি নতুন করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাবে। ওই ব্যক্তি তার অবস্থান থেকে ভালো একটি জায়গা খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করবেন। কেউ যেন কোন ভাবেই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষ খেয়াল রাখতে হবে। মেডিকেলে করোনা হাসপাতাল ঘোষণার পূর্বে কুমিল্লার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যেন সাধারণ রোগীদের জন্য বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা তৈরি করেন সে দাবি করছি।

এ বিষয়ে ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, কুমেক হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা বিনামূল্যে সেবার জন্যই আসেন। ঠিক তেমনি সদর হাসপাতাল থেকে সে সব রোগীকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে ওই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিবেন। কারণ একটি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে লাইসেন্স নেয়ার সময় উল্লেখ থাকে প্রতিদিন ১০জন সাধারণ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য। সেটি নিশ্চিত করার জন্য জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা মোকাবেলা কমিটি তা মনিটরিং করবেন।