মঙ্গল্বার ৭ জুলাই ২০২০


বিদেশে ভালো নেই কুমিল্লার লাখো প্রবাসী,দেশে পরিবারও বেকায়দায়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.05.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
‘ছেলে ওমান, স্বামী আবুধাবি। লকডাউনের কারণে দুই মাস কাজ নেই ছেলের। স্বামী কয়েকদিন লুকিয়ে কাজ করেছে। নিজের খরচ কোনোমতে মিটিয়ে টাকা পাঠিয়েছে ছেলের জন্য। কড়াকড়ি আরোপের কারণে এখন স্বামীর কাজও বন্ধ। স্বামী -সন্তান প্রবাসে থাকায় সরকারি ত্রাণ বা স্থানীয় সহায়তা মিলছে না ঠিকঠাক। এ অবস্থায় নিজেরা বাঁচব, নাকি তারা বাপ-ছেলে বাঁচবে’- এ কথা বলে মুষড়ে পড়েন নাঙ্গলকোটের এক নারী। অপর এক নারীর দুই ছেলে ওমান প্রবাসী। কাজ নেই। পরিবার সামান্য ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু ভয় চাকরি হারানোর, দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার। ওই নারী পথে পথে হেঁটে কান্না করেন। একদিকে অভাবের চোখ রাঙানি, অপরদিকে চাকরি হারানো। করোনার ছোবলের ভয় পেয়ে বসেছে কুমিল্লার কয়েক লাখ প্রবাসী পরিবারকে। এমন অবস্থায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
কুমিল্লা জেলা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংখ্যা ও রেমিটেন্সে কুমিল্লা জেলা সর্বোচ্চ। ২০০৫ সাল থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ জেলার দশ লাখ আঠারো হাজার বাসিন্দা কাজ নিয়ে বৈধভাবে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছে। কাজ ছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা, চেইন ভিসা এবং অবৈধভাবে বিদেশে ঢুকেছে আরও কয়েকলাখ। কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্রমতে, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪লাখের বেশি পাসপোর্ট করা হয়েছে। এরমধ্যে হজযাত্রী, তীর্থযাত্রী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীও রয়েছে।
পাসপোর্ট অফিস কুমিল্লার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামিম আহমেদ জানান, পাসপোর্টগুলোর মধ্যে রি-ইস্যুকৃত পাসপোর্টও রয়েছে। ভ্রমণকারীদের বেশিরভাগ শ্রমিক হলেও অন্যান্য কাজেও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাসপোর্ট করেছে।
আসা যাওয়ার পরিসংখ্যান বাদ দিলেও বর্তমানে প্রায় পনেরো লাখ অভিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ কাজ করছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। সিঙ্গাপুর, ইউরোপ-আমেরিকাতেও জেলার বিপুল সংখ্যক লোক আবাসন গেড়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে প্রবাসী সর্বোচ্চ। এছাড়া কুমিল্লা থেকে অবৈধপথে মোজাম্বিকসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো লোকের সংখ্যাও কম নয়। করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কাজ বন্ধ বেশিরভাগ শ্রমিকের। ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতিতেও ধস নেমেছে। কয়েকটি দেশে ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এতে মে মাস ও তার পরবর্তীতে রেমিট্যান্সে বিরাট ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ জানান, যেহেতু বিদেশে অবস্থানরতরা বেশিরভাগ শ্রমিক। তাই জেলার রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার আগে ছুটিতে আসা অনেক প্রবাসী ফিরতে না পেরে বেকার হয়ে পড়েছে। এসময়ে জেলার অন্তত ৫০ হাজার প্রবাসী দেশে আটকা পড়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, শুধুমাত্র মার্চ মাসে ১৫ হাজার ২৬৯ প্রবাসী কুমিল্লায় ফিরেছে। এটা পাসপোর্টের হিসাব। এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
কুমিল্লার সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে কথা বলে জানা যায়, এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহে তেমন কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে মে মাসের এ পর্যন্ত কুমিল্লার রেমিট্যান্স অর্ধেকে নেমে এসেছে।