বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০


স্যার শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে নয় পুরো জাতির কাছেই আনিস স্যার ছিলেন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.05.2020

 আহসানুল কবীর।।

আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান নামটি ঢাকা পড়ে গেছে সেই কবে।ড.আনিসুজ্জামান নামেই খ্যাত হয়েছেন বিশ্বময়।আনিসুজ্জামান থেকেই কখন যেন হয়ে গেলেন আনিস স্যার।স্যার বলতে তার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে নয় পুরো জাতির কাছেই তিনি আনিস স্যার।আর সেটাই তো স্বাভাবিক।তার উচ্চতার কয়টা মানুষ আছে দেশে? তিনিতো আমাদের বাতিঘর আমাদের বিবেক।দলদাসদের এ যুগে আনিস স্যার নির্ভিক চিত্ত।শুধু যে স্বৈরাচার আর প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে বলেছেন তা নয় নিজ পছন্দের আদর্শিক শক্তি ভুল করলে তাও বলেছেন অবলীলায়।আমার মনে আছে নিরাপদ সড়কের দাবীতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কে সরকারী দলের অনেক লোক যখন কটাক্ষ করছিলেন তখন তিনি লেখলেন অসাধারণ একটি কলাম “শক্তির উদ্বোধন”।সরকার বাধ্য হয়েছিলো বিষয়টি আমলে নিতে।একবার ১৫ আগষ্টে সরকারী ক্রোড়পত্রে আমলারা উনার লেখা এডিট করে বাকশাল বিষয়ে কিছু মন্তব্য ফেলে দেন।পরদিন তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান বাকশাল সহ সামগ্রিক ভাবেই তিনি বংগবন্ধুর মূল্যায়ন করেছেন খন্ডিত ভাবে নয়।কিন্তু একারনে শেখ হাসিনা কখনো তার প্রিয় আনিস স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা হারাননি।এখানে শেখ হাসিনাও অনন্য।বাংলাদেশের ইতিহাস আনিসুজ্জামান কে বাদ দিয়ে লেখা সম্ভব নয়।তিনি একমাত্র ব্যক্তি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য না হয়েও এর প্রতিটি সভায় উপস্হিত থাকতেন এবং মতামত ব্যক্ত করতেন।সংবিধানের খসড়া সমুহ ড. কামাল হোসেন ড্রাফট করতেন আর আনিসুজ্জামান সেটি বাংলায় অনুবাদ করতেন।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী সরকারের পরিকল্পনা সেলের সদস্য ছিলেন।সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন স্বাধীন বাংলা শিক্ষক পরিষদের।স্বাধীনতার পর কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসাবে শিক্ষানীতি প্রণয়নে অবদান রাখেন।পুরস্কার তার পেছনে ছুটেছে।স্বাধীনতা পদক একুশে পদক বাংলা একাডেমী পদক ভারতের পদ্মভূষন দেশিকোত্তম সবই তার ঝুলিতে জমা।একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম।তিনি নিজেই বলেছেন তার দাদা আবদুর রহিম বংগভংগের সমর্থক ছিলেন।তার বাবা পাকিস্তান আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।এমনকি তার গবেষনা কর্মেও তিনি যেভাবে মুসলিম মানসকে তুলে ধরেছেন তা অতুল্য।তার গবেষনা কর্ম “মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য “বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।কিম্তু মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে সর্বদা ছিলেন সোচ্চার কন্ঠ।গণ আদালতে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে তিন জন অভিযোগকারীর মধ্যে তিনি একজন।রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে তিনি সরব প্রতিবাদ করেন।এত উচ্চতার একজন মানুষ অথচ কত বিনয়ী।যারা তার সান্যিধ্য পেয়েছেন তারা সেটা জানেন।তার গুরুজন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের প্রতি তার ভক্তি শ্রদ্ধা ছিলো অপরিসীম।তার সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে বেঁচে থাকবে আজীবন। তার লেখা বিপুলা পৃথীবি কি অসাধারণ একটি সাহিত্য কর্ম!আমার একাত্তরে অবলীলায় তিনি অনেক অপ্রিয় সত্যকে তুলে এনেছেন।সত্য বলতে কুন্ঠাবোধ করেননি।বাঙালী মুসলমানের ভাবজগৎ বুঝতে হলে তার স্বরুপের সন্ধান পড়তেই হবে।এলেখাটি কোন সুচিন্তিত লেখা নয়।তাৎক্ষনিক আবেগের প্রকাশ মাত্র।এটুকু বলতে পারি আমাদের জীবদ্দশায় আনিস স্যারের উচ্চতার একজন মানুষ আর আসবেনা যিনি শুধু তার সাহিত্যকর্মে নয় চলনে বলনে ব্যক্তি জীবনে বিশ্বাসে সততায় বিশুদ্ধ একজন মানুষ।এই রকম একটি নক্ষত্রের জন্য আরো কত যুগ অপেক্ষা করতে হয় বিধাতাই জানেন। ভালো থাকবেন স্যার ভালো থাকবেন জাতির প্রিয় অভিভাবক।
লেখক : বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক,গবেষক ও লেখক