শনিবার ৪ জুলাই ২০২০


১জুন থেকে কুমিল্লায় শুরু হচ্ছে করোনা রোগীর চিকিৎসা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.05.2020

শাহাজাদা এমরান।।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা.মো.মুজিবুর রহমান বলেছেন,ইনশাল্লাহ সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামী ১ জুন সোমবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যে ১০টি আইসিও বেডসহ করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ১৫৪টি বেড সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে উপকৃত হবে কুমিল্লা অঞ্চলের ৬০ লক্ষ মানুষ। তিনি আজ ২৭ মে বুধবার বেলা ১২ টায় এই প্রতিবেদকের সাথে এক একান্ত সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ও কুমেক পরিচালক ডা. মুজিব বলেন, ১৯৯২ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর গত ২৮ বছরেও বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটিতে আইসিও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।কিন্তু আমি পরিচালক হিসেবে যোগদানের পরই এই আইসিও স্থাপনের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করি। শুধু মাত্র এই আইসিও’র কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এখানে মারা যাচ্ছে।কারণ,আইসিও উপযোগী রোগীদের বাধ্য হয়ে আমরা বাহিরে পাঠিয়ে দেই। ফলে ঢাকায় যাওয়ার আগেই রাস্তায়ই অনেক রোগী মারা যায়। কুমিল্লা সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আকম বাহা উদ্দিন বাহার মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে আমরা ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিও বেড স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।
করোনা রোগীদের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে কতটুকু প্রস্তুত জানতে চাইলে কুমেক পরিচালক জানান,করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে আমরা ৩৭ জন চিকিৎসক এবং ৬৩ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছি। ১০টি আইসিও বেডসহ ১৫৪টি বেড শুধু করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করেছি।আমরা উদ্ধোধন করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি মহোদয়ের কাছে সময় চেয়েছি। আমরা সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ১ জুন সোমবার নির্ধারণ করেছি। অতিথিদ্বয় সময় দিলে আশা করি আগামী ১ জুন আমরা উদ্ধোধন করব ইনশাল্লাহ।
কুমেক পরিচালক বলেন,আইসিও’র ১০ বেডসহ করোনার ১৫৪টি বেড যখন চালু হবে তখন সরাসরি কুমিল্লার ৬০ লক্ষ মানুষ এখানে উপকৃত হবে। যে কোন প্রয়োজনে সেবা নিতে পারবে চাঁদপুর,ব্রাক্ষনবাড়িয়া,ফেনী,লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন আর কুমেক হাসপাতালের অধীন ফোর্টিজ হাসপাতালে আছে ৮জন এই ২৮ জন করোনা রোগী এখন আমাদের চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কুমিল্লার এ যাবত কালের ইতিহাসে জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে সবচেয়ে বেশী সময় দায়িত্ব পালন করা কুমেক পরিচালক ডা.মজিব রহমান বলেন,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রায় তিন শতাধিক চিকিৎসক এবং প্রায় তিন শতাধিক চিকিৎসক নার্স করোনার ঝুঁকির মধ্যে থেকেও দিন রাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের দিন সবাই যখন ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন আমিসহ আমার চিকিৎসকরা তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে।কারণ,আমি আমার চিকিৎসা জীবনে সব সময়ই চেষ্টা করে আসছি যে,আমার নূন্যতম অবহেলার কারণে যাতে একটি জীবনও হারিয়ে না যায়।
চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশী করোনায় আক্রান্ত কুমিল্লা।এই বিষয়টি একজন চিকিৎসক হিসেবে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুমেক পরিচালক ডা.মুজিব রহমান বলেন,ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জের সবচেয়ে নিকটের জেলা হচ্ছে আমাদের কুমিল্লা। এই দুটি জেলা যখন সংক্রমন হলো তখন নদী পথে এবং সড়ক পথে ঐখানকার কুমিল্লার লোক গুলো কুমিল্লা আসতে লাগল।ফলে সংক্রমন দেখা দেয়।আর দেবিদ্বারের নবিয়াবাদের জীবন সাহা নারায়নগঞ্জ থেকে সংক্রমন হয়ে প্রথম দেবিদ্বার তার বাড়িতে আসে। পরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়।এর পর চান্দিনার একটি ক্লিনিকে টেস্ট করায়।এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। এর পর আমাদের এখানে ভর্তি না হয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ফলে রাস্তার মধ্যে করোনায় সে মারা যায়। এই যে এতগুলো ষ্টেশন সে ঘুরল ফলে সব জায়গায়ই সে সংক্রমন করে গেছে। এই জীবন সাহার কারণেই মূলত কুমিল্লায় করোনার এত ভয়াভহ অবস্থা।তা ছাড়া শুরুতেই যদি দেবিদ্বারকে জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যেতো তাহলেও কিছুটা সুফল পাওয়া যেত।এখন দেবিদ্বার,মুরাদনগর ও চান্দিনার ভয়াভহ অবস্থা। প্রশাসনের উচিত এই তিনটি উপজেলা নিয়ে এখনি কঠোর সিদ্ধান্তে আসা।আর কুমিল্লা শহর আক্রান্ত হয়েছে বাহিরের উপজেলার লোক গুলো নানা উপসর্গ নিয়ে এখানে চিকিৎসা করাতে বা অন্য কোন কারণে আসাতে।
করোনার মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে ভাইরাসটি সংক্রমন হয় কি না জানতে চাইলে ডা, মুজিবুর রহমান বলেন,আসলে আমাদের দেশে বর্তমানে যেটা হচেছ এটা এক দিকে যেমন কুসংস্কার অপর দিকে অমানবিক। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যখন মারা যায় তখন তার শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তার কাছ থেকে সংক্রমন হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। যদি হাসপাতালে মারা যায় আমরা এক ঘন্টার মধ্যে প্রথমে তাকে পলিথিন দিয়ে পরে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে ফেলি। ফলে কোন ভাবেই এই মৃত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার নূন্যতম কোন সুযোগ থাকে না। যারা করোনায় মৃতদের লাশ দাফন কাফনে বাঁধা প্রদান করছে তারা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে অন্যায় করছে। এটা এমন একটি অন্যায় এবং অপরাধ যা ক্ষমার অযোগ্য আমার দৃষ্টিতে। কারণ,আপনি,আমি কিংবা আমাদের স্বজনরাও যে কোন সময় করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। তখন যদি কেউ দাফন কাফনে বাাঁধা দেয় তখন নিজের কাছে কেমন লাগবে। এই বোধটি আমাদের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে।
কুমেক পরিচালক বলেন,করোনা রোগীদের অবহেলা না করে তাদের সাহস দিন,উৎসাহ দিন।নিয়ম মেনে চলতে সহায়তা করুন।