শনিবার ৪ জুলাই ২০২০


আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.05.2020

জাহিদুল ইসলাম, কুবি।।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে দেশের অন্যতম এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলমান করোনা ভাইরাসের এ সংকটময় পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠটি প্রাকৃতিক এক অপরূপ সৌন্দর্য্যের আবাসস্থল কুমিল্লার কোটবাড়িতে উঁচু নিচু পাহাড়, টিলা আর সবুজের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন,‘এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বছরের প্রথমেই একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই তো হাত-পা বাঁধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সকল উপাচার্যবৃন্দদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনাও আমারা নিয়েছিলাম। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আগামীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করবো।’ করোনা ভাইরাসের এ মহামারীতে সবাইকে স্বাস্থ বিধি মেনে চলতে এবং নিজ বাসায় অবস্থান করার পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বলেন,‘আমরা এখনও পর্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়নি। আমরা সবাই অনেক সচেতন বলেই সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই সুস্থ থাকুক সেই প্রত্যাশাই করছি।’

২০০৬ সালের ২৮ মে মাত্র ৫০ একর নিয়ে দৃষ্টিনন্দন লালমাই পাহাড়ে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন শালবন বিচারের কোল ঘেঁষে দেশের ২৬ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যতম এক উচ্চ শিক্ষার আবাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠটি মাত্র ৭টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছে বিভিন্ন বিভাগের দশটি ব্যাচ। যারা অনেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশ তথা মানবজাতির কল্যাণে বেড়িয়েছে। যাদের পদচারণা দেশের গুরুত্বপূর্ণ যায়গাসহ দেশের বাহিরেও বিদ্যমান। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প পাশ হয়। যেখানে নতুন করে আরও ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নানাভাবে ঐতিহ্য বহন করছে। প্রাচীনকালে প্রাচীন বাংলার ‘সমতট’ রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল ‘লালমাই-ময়নামতী’। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী থেকে (কারও কারও মতে সপ্তম শতাব্দী) দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ওই রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ৫০০ মাইল। সপ্তম শতাব্দীতে চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেব এখানে আনন্দ বিহার বা শালবন বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

জানা যায়, ষাটের দশক থেকে কুমিল্লাবাসীর দাবি ছিল একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার। তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৬৪ সালে তৎকালীন সরকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সব প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামে। এর পর থেকেই কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কুমিল্লায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। পরে ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কুমিল্লার জনসভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর ২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ঠিক এক বছর পরে ২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয় জন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৫ টি নীল বাস এবং বিআরটিসির ১০ টি ভাড়া বাসসহ সর্বমোট ১৫টি বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টি আবাসিক হল রয়েছে। যেখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি, ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি আবাসিক হল। এছাড়াও শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে একটি ডরমেটরি। তাছাড়া একটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমিটরি ও একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে।