মঙ্গল্বার ৭ জুলাই ২০২০


চৌদ্দগ্রামে ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.05.2020

মো.আবুল বাশার রানা,চৌদ্দগ্রাম।।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কালিকাপুর ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে জামমুড়া গ্রামের আলী নোয়াজের ছেলে ওয়াসিম আক্রামের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ী জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম জোর কানন ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। তার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫.৩০ টার দিকে ফাহিমা আক্তারের স্বামী ওয়াসিম আক্রাম শয়ন কক্ষের দুটি দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে তাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পরেও কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে দেখে তার স্ত্রী ঘরের ভূতুরের সাথে উড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। তখন সে চিৎকার দিলে আশে পাশের লোকজন এসে সাবল দিয়ে ঘরের দরজার লক ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখে সে ঘরের ভূতুরের সাথে গলায় উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ঝাটি ও পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যর ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী জানায়।

ফাহিমা আক্তারের স্বামী ওয়াসিম আক্রাম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী বাবার বাড়ী যেতে চায়। তখন তাকে আমি বলি লকডাউনের কারণে আমি তিন মাস বেকার, হাতে টাকা পয়সা নেই। তুমি কয়েকদিন পর তোমার বাবার বাড়ী যাও, একথা বলাতে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে আমি গোয়াল ঘরে কাজ করে ঘন্টা ২ পরে এসে দেখি রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ঘরের ভূতুরের সাথে তাকে গলায় উড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখি। সাথে সাথে বাড়ীর লোকজন এসে রুমের লক ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে তাকে মৃত দেখতে পায়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোশারফ হোসেন লিটন জানান, পরিবারের লোকজন ফাহিমাকে গলায় উড়না পেঁচিয়ে ঘরের ভূতুরের সাথে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে ফাহিমা আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি। ফাহিমা আক্তারের স্বামী ঢাকায় একটি কম্পিউটার দোকানে চাকুরী করে। ইরফান হোসেন নামে ৯ মাস বয়সের তার একটি পুত্র সন্তান আছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মজিদ আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই গৃহবধূর আত্মহত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত ও পোস্টমর্টেমের পর বলা যাবে কীভাবে এবং কেন তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।