শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০


থুতনিতে থাকে মাস্ক-পুলিশ দেখলে মুখে উঠে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.06.2020

ফাইল ছবি।

মাহফুজ নান্টু।।

স্বাস্থ্য বিধি কেউ মানছেন-আবার কেউ মানছেন না। কারো মুখে মাস্ক দেখা যায়। কেউবা তুলে রাখেন নাকের ডগায়। পুলিশের গাড়ি দেখলেই নামিয়ে ফেলেন। দোকান মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ মে থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে কুমিল্লা জেলায়। লকডাউন তুলে নেয়ার পর গত দু’দিন কেনা কাটায় এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টা। নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাসনগাছা। বাস-অটোরিকসায় ঠাসা বাসস্ট্যান্ড। যান বাহনে উঠার সময় জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। তবে যাত্রী উঠানোর পর বাসে তিল ধারনে ঠাঁই নেই। ফুটপাতে ভ্রাম্যমান ফল দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না কেউ। কথা হয় বাস চালক ও হেল্পারদের সাথে। যাত্রীবাহী বাসের হেল্পার সোহেল জানান, জীবানুনাশক স্প্রে করে যাত্রীদের তুলেছি। ভেতরে এত যাত্রী গিজগিজ করছে। এতে করোনা সংক্রমিত হতে পারে? এমন প্রশ্নে হেল্পার সোহেলের উত্তর ঔষধ ছিটাইছি বস। তবে শাসনগাছায় যানজট সামাল দিতে গলদগর্ম হতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।
সকাল সাড়ে ১০ টা। নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম কান্দিরপাড়। সাত্তারখান,খন্দকার হক টাওয়ারসহ অন্যান্য শপিংমলগুলোতে দেখা যায় জীবানুনাশক টানেল স্থাপন করেছেন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও শপিং মলের সামনে দাঁড়ানো ছিলো শপিং মলের স্টাফরা। যারা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা চেক করেন। পরে গ্রাহকদের ভেতরে প্রবেশ করাতে দেখা যায়। তবে ঘন্টাব্যাপী শ’খানেক গ্রাহকের তাপমাত্রা চেক করা হলেও কারোর শরীরের তাপমাত্রা বেশী পাওয়া যায়নি।
খন্দকার হক টাওয়ারের পাশে ফুটপাতে শিশুদের কাপড় বিক্রি করছিলেন জহির। বিদ্রুপের হাসি হেসে জহির বলেন, ওই মার্কেটে প্রবেশের যন্ত্রডি দিয়া যে চেক দেয় এইডি হলো মনের সান্তনা। করুনা ( করোনা) কার ভিতরে আছে কেউ জানেনি। হুদাই চেক করে।
রাজগঞ্জ বাজারের ভিড় ঠেলে বাজারের ব্যাগ নিয়ে রিক্সাকে ডাকলেন গৃহিনী সুমি। তিনি জানান, মাছ বাজারে মানুষে ঠেলাঠেলি। নিজের মুখের মাস্ক ঠিক করতে করতে এত মানুষ কইত্তে আইলো বলে রিকসায় করে গন্তব্যর উদ্দেশ্য রওনা করেন।
কুমিল্লায় লকডাউন তুলে দেয়ার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দোকানে বাজারে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন জানান, বড় শপিংমলগুলোতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকিকিনি চলছে। তবে এটা সত্যি ছোট দোকান ও রাস্তার পাশের জায়গায় শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতা-বিক্রেতাকে শতভাগ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারের আওতায় আনার। আমাদের টিম মনিটরিং করছে। আশা করছি আগামী দিনগুলোতে আমরা কেনাবেচায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে শতভাগ সফল হবো।