বুধবার ৮ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » মেস ভাড়ার জন্য ছাত্রীদের তালাবদ্ধ, ৯৯৯ নম্বরে কলে উদ্ধার


মেস ভাড়ার জন্য ছাত্রীদের তালাবদ্ধ, ৯৯৯ নম্বরে কলে উদ্ধার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.06.2020

আবু সুফিয়ান রাসেল।।
কুমিল্লায় মেস ভাড়ার জন্য ছাত্রীদের আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চার ঘণ্টার বেশী সময় তালাবদ্ধ থাকার পর ছাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে বুধবার শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ভিক্টোরিয়া কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী মেরিন তানজিনা টুম্পা অভিযোগ করেন, ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিলে আমরা ছয়জন ছাত্রী থাকি। ভিক্টোরিয়া কলেজে অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। প্রায় তিন মাস মেসে ছিলাম না। আমাদের টিউশনি বন্ধ। মঙ্গলবার ছয়জন মেসে গিয়েছি। বাসায় প্রবেশের পর মূল গেটে আন্টি তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা বলেছি, যেহেতু মেসে ছিলাম না, টিউশনি নেই এখন। ৫০% ভাড়া দেবো। অন্টি বলেছেন পুরো টাকা দিতে হবে। আমরা বলেছি তাহলে এখন টাকা সাথে নেই, মালামাল থাকুক। আমরা মে মাস পর্যন্ত টাকা দিয়ে, আসবাব নেবো। তিনি বললেন, যেহেতু জুনের দুই তারিখ, জুনের ভাড়াও দিতে হবে। তিনি গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের চার ঘণ্টার মতো আটকে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।
ধর্মপুর জাহানারা মঞ্জিলের মালিক জানাহারা বেগম জানান, তাদের কাছে আমি তিন চার মাসের ভাড়া পাই। পূর্বে এমন করে বহু ভাড়াটিয়া টাকা না দিয়ে চলে গেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ করি। তারা আমার মেয়ের মতো। আন্তরিকতার মধ্যে তাদের বলছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলবো না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় বাসার বিভিন্ন বিল দেই। সরকার যদি গ্যাস, কারেন্ট, পানি বিল মওকুফ করে আমিও তাদের মওকুফ করতে পারতাম।
কুমিল্লা কোতয়ালী থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে টিমসহ ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় তালা দেওয়া ছিলো। মালিককে ডেকে তালা খুলি। এ বিষয়ে মালিক ও ছাত্রী উভয়ের সাথে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, ছাত্রীরা চায় করোনাকালীন সময়ে ৫০% টাকা দেওয়ার জন্য। প্রাথমিক ভাবে বিষয়টির সমাধান করে তাদের বাসা থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করি। যেকোন সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূইয়া জানান, বিশ্ব এখন মহাসংকটে আছে। এ সময়ে সবাই সবাইকে ছাড় দিতে হবে। এখানে যারা পড়ে বেশীর ভাগ গরিব ঘরের সন্তান। তাদের অংশিক ভাড়া মওকুফ করা দরকার। রাজশাহীতে ৪০% ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। আমরাও বাসা মালিকদের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ বিষয়টি আমি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। এছাড়াও যদি ভাড়া নিয়ে আমার ছেলে-মেয়েদের সাথে কোথাও সমস্যা হয়। আমাদের জানালে প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।