বুধবার ৮ জুলাই ২০২০


তিতাসে গোমতীর ভাঙ্গনে বসতবাড়ি,বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.06.2020

মহসিন হাবিব, তিতাস।।
কুমিল্লার তিতাসে গোমতীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বসতবাড়ি। বিপর্যস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হুমকির মুখে রয়েছে স্কুল ও মসজিদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়,কুমিল্লা তিতাস উপজেলার ৭নং নারান্দিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গোমতী নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত নারান্দিয়া (পশ্চিম পাড়) গ্রামের দুই হাজার ভোটারসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। এই গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষক। এক ফসলী ধানই তাদের এক মাত্র অবলম্বন। গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ৮-১০টি স্থানে। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় সাত শতাধিক বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। এখনো প্রায় ৭০-৮০টি বাড়ি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এই গ্রাম থেকে প্রায় ২০০টি পরিবার ভিটিবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন। তাছাড়া গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাউছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা এবং কয়েকশত বছরের পুরানো জামে মসজিদটিও হুমকির মুখে রয়েছে। বেড়িবাঁধের পুরনো ব্লকগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছর পূর্বে দুইটি স্থানে ব্লক বসিয়ে ভাঙ্গন রোধ করলেও সেই স্থান ভাঙ্গন থেকে কিছুটা রেহাই পেলেও উজান থেকে ভাঙন এগিয়ে এলে বাঁধটির প্রায় ৯০ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নারান্দিয়া (পশ্চিম পাড়ের) এই হাওড়ে বাঘাইরাপুর, জিয়ারকান্দি, গোপালপুর, দড়িকান্দি, সোনাকান্দা, নারান্দিয়া, চেংগাতলি, দুখিয়ারকান্দি,গোপচর গ্রামসহ বেষ্ঠিত কয়েক হাজার একর ধানের জমি বন্যা থেকে রক্ষার এক মাত্র বাঁধটি না থাকার কারণে কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে সারা বছর খুবই আতংকিত থাকেন। এ বছর অনেক কৃষক ধানী ফসল হারানোর ভয়ে জমির আবাদ থেকে বিরত থাকেন। এই বাধঁটি ভাঙ্গনের ফলে গ্রমের এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাতায়াত করতেও নৌকার প্রয়োজন হয়। স্কুল কলেজ মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সময় মত নৌকা না পেলে ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়ালেখা। তাছাড়া অসুস্থ রোগী এবং প্রসূতিদের বেলায় যাতায়াতের কথা মাথায় আসলে নাভিশ^াস উঠে যায় তাদের। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক মেম্বার মফিজুল ইসলাম প্রধান বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মন্ত্রী পানি-সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবেদন করা হলেও কোর সুরাহা হয়নি।
প্রায় দেড় যুগে পূর্বে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ডুবন্ত বাঁধটি নির্মাণ হওয়ার ৪-৫বছর পরই নদী গর্ভে বিলীন ও চিড়চিড়া পয়েন্টের তাজ স্ক্রিম সংলগ্ন ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ৩৫বিঘা আবাদী জমির ফসল হারিয়ে দিশেহারা মোস্তাক বেপারী। ১৭বিঘা জমি ও এশাধিক বার বাড়ি হারিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন মজু প্রধান। তাছাড়া আবাদী জমিও একাধিকবার বসত ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন, এই গ্রামের আল আমিন, আব্দুল কুদ্দুস, আলম ভুইয়া, হানিফ সরকার, শাহ আলম মুন্সী, তোতা মিয়ার পরিবারসহ এমন অগণিত পরিবার।
এলাকাবাসী জানান, তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের পড়াশোনা করাতে না পেরে কোন রকম পঞ্চম শ্রেণি র্পযন্ত পড়েই বিদ্যালয় ছেড়ে দিচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। যদিও কেউ কেউ কষ্ট করে স্কুলে যায় তাও আবার বর্ষাকালে সপ্তাহে দুই-তিন দিন। বর্ষাকালে পরিকল্পনাই করতে হয় যেদিন বৃষ্টি না হবে সেদিন স্কুলে যাবে। গ্রামটির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদীটি শতশত মানুষের ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতি বছর। এই গ্রাম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান নারান্দিয়া কলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার কোনো রাস্তা না থাকায় এবং বর্ষাকালে গোমতীর অতি প্রবাহে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়, তাতে করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ব্যাঘাত ঘটে। বর্ষাকালে বাড়িগুলো দেখলে মনে হয় কচুরিপানা পানিতে ভাসছে।
এ ব্যাপারে বর্তমান ইউপি সদস্য মাসুম মোল্লা বলেন, অনেক তদারকির পরও কোন কাজ হচ্ছেনা। এটি এখন ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন একাধিকবার পরির্দশন করে গেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন কাজ নজরে আসেনি। এ ভাঙন রোধে আমি কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) মাননীয় সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ভাঙ্গনের কোন তথ্য আমরা পাইনি। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।