শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০


আখাউড়ায় ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে ভোগান্তিতে গ্রাহক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.06.2020

আখাউড়া প্রতিনিধি ।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল নিয়ে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন বাড়ি বাড়ি না গিয়ে, মিটারের রিডিং না দেখে, অফিসে বসেই তৈরি করছেন মনগড়া বিল। গত দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল মাত্রাতিরিক্ত বাড়ানোয় গ্রাহকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।
আখাউড়া পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বানালেও উপজেলার লোডশেডিং, যান্ত্রিকত্রুটি, সংযোগ পেতে ভোগান্তি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে না। উল্টো মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে দিতে হচ্ছে জরিমানাও।
আখাউড়া পৌর এলাকার মো. সজিব মিয়া বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে মিটারের রিডিং না দেখে মুখস্থ ২৭৫ ইউনিটের বিল লিখে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ ওই দুইমাসে আমার মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার হ্য়েছে ১০০-১২০ ইউনিট।
একই এলাকার মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে আমাকে বিল পাঠানো হয়েছে তিন হাজার টাকা। আবার শুধু মে মাসে বিল এসেছে দুই হাজার ৬৫০ টাকা। অথচ বিল আসার কথা সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০ টাকা।
আখাউড়া উত্তর ইউপির আমোদাবাদের মর্জিনা বেগম বলেন, প্রতিমাসে ৬০০-৭০০ টাকা বিল আসতো। কিন্তু দুই মাস ধরে বিল ১৪০০-১৫০০ টাকা হচ্ছে। অথচ এই সময়েই বিদ্যুৎ সবচেয়ে কম ব্যবহার হয়েছে।
আখাউড়া নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যুৎ বিলের নামে গ্রাহকদের ধোঁকা দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। করোনাভাইরাসের অজুহাতে আমাদের কাছ থেকে দুই মাসে দেড় থেকে দ্বিগুণ বিল বেশি নিচ্ছে। এমন ভুতুড়ে বিল এর আগে কখনো হয়নি।
পল্লী বিদ্যুতের আখাউড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আবুল বাশার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই গড় বিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিলের সমস্যা যাদের হয়েছে তারা অফিসে এসে সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।