শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০


আমার সন্তানটিকে এভাবে কারা মারলো?


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.06.2020

নিহত শিশু আবদুর রহমান আরাফ।

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি।।
আমার বাচ্চার বয়স মাত্র ২ বছর। আমি চাকরি করার কারণে এখানে ভাড়া থাকি। সঙ্গত কারণে আমার দুধের বাচ্চা কিংবা আমার তো এখানে কোনো শত্রু নেই। কেন আমার সন্তানটিকে এভাবে মারা হলো? কারা মারলো? কেন মারলো? কোনো উত্তর তো আসার মিলছে না বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন ওষুধ কম্পানির সিনিয়র অফিসার আবদুল কাইয়ুম।

আবদুর রহমান আরাফ নামের শিশুটিকে সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৯নং গন্ধব্যপুর ইউনিয়নের তারালিয়া হাফেজ বাড়ির পৈত্রিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যার পর শিশুটির বাবার কর্মস্থল চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় শিশুটির বাবা-মায়ের ভাড়া বাসার পানির ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার করে সেখানকার পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেছেন ও শিশুটির লাশের ময়না তদন্ত শেষে সোমবার সকালে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাবা মায়ের সাথে চট্টগ্রামের বাকুলিয়া থানাধীন মিয়া খান নগর এলাকার ম্যাচ ফ্যাক্টরি মুনসুর আলী সড়কের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলম মিয়া প্রকাশ মিয়া’র ৭তলা ভবনে থাকতো। সেই ভবনের ছাদে থাকা পানির ট্যাংকি থেবে রবিবার রাতে লাশ উদ্ধার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

শিশুর বাবা আবদুল কাইয়ুম ওই বাসার নিচতলায় স্বপরিবারে বাসা ভাড়া থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামে। তিনি চট্টগ্রামে অপসোনিন ফার্মার সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত।

আবদুল কাইয়ুম জানান, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে জানায় আমার ছেলে আবদুর রহমান আরাফকে পাওয়া যাচ্ছে না। সাথে সাথে আমি কর্মস্থল থেকে বাসায় ছুটে যাই। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান না পাওয়ায় মাইকিং করা হয়। রাত ৮টায় বাকুলিয়া থানায় জিডি করতে যাই। জিডি করে বের হওয়ার পর এলাকার কেউ একজন আমাকে ফোনে জানায় বাড়ির ছাদে পানির টাঙ্কিতে আরাফের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, পরে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। রাতে এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি কান্না কণ্ঠে জানান, আমার ছেলে আরাফ মাত্র এক পা ২ পা হাঁটতে পারে। তার তো কোনো শত্রু নেই। আমার সাথে এ এলাকার কারো পরিচিতও নেই। তাহলে নির্মমভাবে আমার শিশুটিকে কে বা কাহারা হত্যা করলো।

এদিকে সোমবার রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তার বাবা মা তাদের গ্রামের বাড়িত পৌঁছলে ঘটে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। এলকার শত শত মানুষের চোখের পানিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে পারিবারিক গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্রগাম মহানগর বাকুলিয়া থানার উপ- পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন। তিনি জানান, রোববার খবর পেয়ে পরে সৈয়দ মুনছুর আলী সড়কের নুরুল আমিন মিয়ার ৮ তলা বাড়ির পানির ট্যাঙ্কি থেকে শিশু আরাফের লাশ উদ্ধার করি। লাশ উদ্ধার করে চট্রগাম মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে মৃতদেহ বাবা কাইয়ুম হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে।