বৃহস্পতিবার ১৩ অগাস্ট ২০২০


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাঁঠালের বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.06.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার মধ্যে বিজয়নগর,আখাউড়া ও কসবা উপজেলায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর মধ্যে বিজয়নগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কাঁঠালের ফলন হয়েছে। এই উপজেলায় যে কয়েকটি কৃষির ভাল ফলন হয় তার মধ্যে কাঁঠালের সুনাম দেশ জুড়ে। এখানকার কাঁঠাল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় সারা দেশেই এর কদরও রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় শত বছর পূর্ব থেকে বিজয়নগর উপজেলায় কাঁঠাল উৎপন্ন শুরু হয়। জায়গা ও শ্রম কম হওয়াই কাঁঠাল উৎপন্ন হয় বলেই জমিতে কাঁঠালে রূপান্তর করেছেন চাষীরা। ফলন হওয়ার পর থেকে দুই দফায় কাঁঠাল বিক্রি হয়। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামালমুড়া, নুরপুর, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, বক্তারমুড়া, রূপা, শান্তামুড়া, কামালপুর, কচুয়ামুড়া, গোয়ালনগর, ভিটিদাউপুর এলাকায় কাঁঠাল উৎপন্ন হয়।উপজেলার প্রায় বাড়িতে একটি করে কাঁঠাল গাছ আছে। যাদের বাড়িতেই একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেক বাড়িতে কাঁঠাল গাছ লাগান। এসব গাছে দেশীয় আনারইসা জাতের কাঁঠাল উৎপন্ন হয়।
উপজেলার আউলিয়া বাজার, সিংগারবিল, হরষপুর, চম্পকনগর বাজারে বিক্রি হয় অধিকাংশ কাঁঠাল। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ফেনী ও রাজধানীর ব্যবসায়ীরা পায়কারী দরে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যায়। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের ফলে অনেক ফসলের দাম কমে গেলেও কাঁঠালের দাম ঠিকই আছে। গতবছর থেকে এই বছর কাঁঠালের দামের কোন পরিবর্তন হয়নি বলেও কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান। প্রতি একশ’ত ভাল জাতের কাঁঠালের দাম ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের প্রতি একশ’ত কাঁঠাল গড়ে ৫ থেকে ৭হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।
কাঁঠাল বাগান মালিক হাসান মিয়া ও কাউছার মিয়া বলেন, এবছর কাঁঠালের দাম ভালই। ভাল কাঁঠালের দাম ভালই পাওয়া যাচ্ছে। বড় সাইজের কাঁঠাল একটু বেশি আবার মাঝারি কাঁঠালের দাম একটু কম হয়। বিজয়নগর
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল বলেন, এবছর উপজেলাতে ১০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। এখানকার দেশীয় আনারইসা জাতের কাঁঠাল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় সারা দেশেই এর কদর রয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছি।