শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০


মূল আসামিকে বাঁচাতে গ্রহণ হয়নি পরিবারের অভিযোগ, নিহতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.06.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজারে পিটিয়ে পায়ের রগ কেটে পারভেজ হোসেন (২৭) নামের যুবককে হত্যার ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে। নিহত পারভেজের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ মূল আসামিকে বাঁচাতে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে দেড়শ’ ব্যক্তিকে আসামি করেছে। শুক্রবার কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার রাতে যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন আসামিদের নাম উল্লেখ করে। কিন্তু শুক্রবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি। অপর দিকে মফিজুর রহমান ভান্ডারী নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে নিহত পারভেজকে আসামি করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় নিহত পারভেজসহ আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।
মফিজুর রহমান ভান্ডারী মামলায় উল্লেখ করেন নিহত পারভেজসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি মিলে বুধবার সন্ধ্যার পর বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনিতে পারভেজ নিহত হয়।
পারভেজের মামা চাঁন মিয়ার অভিযোগ, কালিরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকান্দর আলীর নির্দেশে তালতলা গ্রামের শাহীন, কমলাপুর গ্রামের কাউছার, কামাল এবং সৈয়দপুর গ্রামের সাদ্দামের নেতৃত্বে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করে মাইক্রোবাসে তুলে কমলাপুর বাজারের কামাল মিয়ার স’মিলে নিয়ে যায়। সেখানে পারভেজকে হাতুড়ি, রড দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে পায়ের রগ কেটে দেয়। এরপর নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এস আই মাহবুবসহ পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করতে গেলে কাউছার এবং মফিজুর রহমান ভান্ডারী পারভেজকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে গাড়িতে উঠান। হাসপাতালে যাওয়ার পথে কাউছার এবং মফিজুর পারভেজকে শ^াসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হত্যাকা-ের ঘটনার দিন রাতেই মামলা করার জন্য আমরা থানায় যাই। তাৎক্ষণিক পুলিশ মামলা না নেওয়ায় হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত থাকায় কালিরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকান্দর আলীকে প্রধান করে শাহিন, কাউছার, কামাল ও সাদ্দামসহ আরও ১৫ ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করি। বৃহস্পতিবার রাতেও আমরা যোগাযোগ করেছি থানায়, কিন্তু পুলিশ জানায় ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এখন শুনি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশের এই মামলায় প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আমরা রোববার আদালতে মামলা দায়ের করবো।
নিহত পারভেজের পরিবারের বক্তব্য, হত্যাকান্ডের শিকার পারভেজ এক বছর আগে কালিরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সেকান্দর আলীর গ্রুপ করতেন। গ্রুপ থেকে সরে আসার পর থেকে চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী তার গ্রুপের সঙ্গে থাকার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিতো। সেই ক্ষোভ থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সেকান্দর আলীর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা পারভেজকে হত্যা করে। বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবক স্থানীয় সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল মবিনের ছেলে।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.সেকান্দর আলী জানান, ‘ঘটনা আমি পরে জানতে পেরেছি। তাকে হত্যা করতে আমি নির্দেশ দিব কেন? তাকে তো পুলিশ খুঁজছিল। এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতি সে মারা গেছে।’
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, যুবককে হত্যার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে যুবককে হত্যায় পুলিশের মামলায় দেড়শো ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। যেহেতু একটি ঘটনায় দুইটি মামলা হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের বিধান রয়েছে। তবে তার পরিবার থেকে যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে মামলা তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ওই অভিযোগপত্রও অনুসরণ করবে।