শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০


লাকসামে সরকারি বরাদ্দের মসজিদের টাকা নিয়ে হামলার ঘটনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.06.2020

লাকসাম প্রতিনিধি।।

লাকসামে মসজিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন নিয়ে দুইপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযোগ দাখিলের সাত দিনেও থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ গুরুতর আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিবাদীপক্ষের লোকজন বাদী ও আহতসহ স্বাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। শনিবার দুপুরে ভূক্তভোগী অভিযোগকারী ও লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের নিকট এ অভিযোগ করেন। গত ৫ জুন রাতে লাকসামের এলাইচ দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসামের এলাইচ গ্রামের জামে মসজিদের নামে সরকারের বরাদ্দকৃত পাঁচ হাজার টাকা উত্তোলন করেন ওই মসজিদের ইমাম মাসুদুর রহমান ও স্থানীয় সর্দার আবদুল মজিদ। ওই টাকা উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন গত ৫ জুন রাত ৯টার দিকে ইমাম ও সর্দারের সাথে বাকবিত-ায় লিপ্ত হন। এসময় সাইফুল তাদের ঝগড়া থামাতে গেলে দেলোয়ার তার উপরও ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে দেলোয়ার ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে সাইফুলকে আহত করে। এসময় চিৎকার শুনে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে দেলোয়ার, তার ছেলে মোবারকসহ সঙ্গীয়রা লোহার পাইপ, হকিষ্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। তারা সাইফুলের মা ও মামার মাথায় আঘাত করে এবং অপর দুইজনকে পিটিয়ে হাড় ভেঙ্গে দেয়। একজনকে রাম-দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের প্রথমে লাকসাম হাসপাতালে ও পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে সাইফুলের মা রেহেনা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পরদিন সাইফুল বাদী হয়ে মোবারক, মুন্না, মনির, মালেক, দেলোয়ার, আরিফ, শাহজাহান, রনি, সোহেলসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় অভিযোগ করেন। বাদী সাইফুল জানান, ‘থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা আজও নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। উল্টো বিবাদীরা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই কামাল হোসেন বলেন, ‘তদন্ত চলছে। আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের ডাক্তারি সনদ হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’