শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » নাসিরনগরে মেঘনার ভাঙনের কবলে বাজার,বসতবাড়ি ও মসজিদ


নাসিরনগরে মেঘনার ভাঙনের কবলে বাজার,বসতবাড়ি ও মসজিদ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.06.2020

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়ন। গত কয়েক বছর ধরে মেঘনার ভাঙ্গনে কবলে পড়ে স্হানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীরা আতঙ্কে মাঝে দিন কাটাচ্ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষগুলোর চোঁখে-মুখে এখন শুধুই হতাশা আর আর্তনাদ । কিন্তু নদীর করাল গ্রাসে এবারই নতুন করে হুমকিতে পড়েছে চাতলপাড় ইউনিয়নের কয়েকশত বছর পুরনো চকবাজার। সেই সাথে চাতলপাড় ও বিলেরপাড়ের বসতভিটা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পুরনো একটি মসজিদও বিলিনের পথে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছর ধরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড়, শত বছর পুরনো চকবাজার ও বিলেরপাড় মেঘনার ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী চকবাজারের ৫০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও চাতলপাড়ের ৫০-৬০টি বসতভিটা, বিলেরপাড়ের ১০-১২জনের বসতভিটাসহ জায়গা, পূর্বদিকের অন্তত ৪০-৫০জনের তিন শতাধিকের বেশি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে আছে চাতলপাড়, চকবাজার ও বিলেরপাড়ের আরো শতাধিক ভবন। ওপারে হাওড়ের উপর দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্ট্রগ্রাম উপজেলায় সড়ক নির্মাণ, চকবাজারের অনতিদূরে জেগে উঠা চর ও ইটভাটার কারণে তীব্র গ্রোত, গ্রোতের গতি পরিবর্তনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চাতলপাড়, চকবাজার ও বিলেরপাড়ের মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজারসহ অনেককিছুর অস্তিত্ব এখন নদীতে গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চাতলপাড়ের অস্তিত্ব বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এমনটা দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নবাসী।
বিলেরপাড়ের বাসিন্দা প্রভাষক শরীফ উদ্দিন বলেন, মসজিদের উত্তরদিকে প্রতি বছর মাহফিল হতো। সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতো। মসজিদটি এখন হুমকির মুখে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে একের পর বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যদি এটি রোধ না করা হয় তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা কি করে বাঁচব।
সরেজমিন দেখা গেছে, চাতলপাড়ের উওরদিকের চরের কারণে পানির বেগ নদীর দক্ষিণদিকে বিলেরপাড় চাকবাজার ও পশ্চিমদিক চাতলপাড়ের গ্রামের দিকে রয়েছে। গ্রোতের গতি দেখে মনে হয়, ভাঙণে পাড়ের মাটির মেঘনা নদীতে মিশে নতুন চর উঠেছে। নতুন চরে ধাক্কা লেগে প্রবল গ্রোতের সৃষ্টি হয়ে পানি দক্ষিণ ও পশ্চিমদিকে প্রবাহিত হয়।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ বলেন, তিন বছর ধরেই ইউনিয়নের শত বছর পুরনো চকবাজার, চাতলপাড় ও বিলেরপাড়ে ভাঙণ অব্যাহত রয়েছে। নদী খননের কারণে নদীর উত্তরদিকের চারভাগের দিনভাগ মাটি ভরাট হয়ে নতুন করে চর উঠেছে। উত্তরদিকে একটি ইটভাটও রয়েছে। চর বাড়ছে, ইটভাটার পরিমানও বাড়ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) রঞ্জন কুমার দাস বলেন, তিনবছর যাবৎত ভাঙ্গনের সমস্যা হচ্ছে। এবছর বর্ষার মৌসুমে ভাঙ্গন রোধে বালি ভর্তি বস্তা ডাম্পিং করছি। এছাড়া বাম দিকে ২ কিলোমিটার স্হায়ী তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ডান দিকে ৮৪০( মি:) চর অপসারণের জন্য ড্রেজিং করার জন্য প্রকল্প প্রদান করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই খুব শ্রীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ইতিমর্ধ্য ভাঙ্গন রোধে বালুভর্তি বস্তা ফেলা শুরু করেছে। আমি তাদেরকে বলেছি যদি ভাঙ্গনের মাএা বেশি হয়ে থাকে তাহলে যেন নদীতে আরোও বেশি বস্তা ফেলা হয়।