শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০


একজন কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন কামরান ভাই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.06.2020

সৈয়দ নুরুর রহমান।।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য, সিলেট সিটি করর্পোরেশনের সাবেক জনপ্রিয় মেয়র, জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ১৫ জুন রাত ৩টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।)
এপেক্সের অনেকগুলো অনুষ্ঠানে কামরান ভাই- এর সাথে একত্রে অংশগ্রহণ করেছি। প্রচন্ড আন্তরিক মানুষ। শান্ত, সৌম্য, ধীরস্থির অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আপাদমস্তক মানবিক আবেদনপূর্ণ একজন নন্দিত জননেতা। খুব গুছিয়ে কথা বলতেন। তাঁর বক্তৃতায় ছিল যেন যাদুর ছোঁয়া। এপেক্স বাংলাদেশের প্রতিটি এপেক্সিয়ানের খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন কামরান ভাই। বক্তৃতার শুরুতে সুললিত কন্ঠে তিনি ওলি আউলিয়া, শ্রীচৈতন্যর পুণ্যভুমি সিলেটকে যেভাবে উপস্থাপন করতেন তা যেন আজো কানে বাজে।
কামরান ভাই সিলেটের গণমানুষের রাজনীতি করতে করতেই একজন জাতীয় নেতায় পরিণত হন। নিজ এলাকার মানুষের কাছে অসামান্য জনপ্রিয়তা ছাপিয়ে সারাদেশে একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত লাভ করেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন কর্মীবান্ধব নেতা। আমৃত্যু তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশকে ধারণ করেই রাজনীতি করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য অনন্য অবদান রেখেছেন তিনি। দেশ ও জাতির কল্যাণ ভাবনায় নিবেদিত ছিলেন প্রিয় নেতা। কামরান ভাই সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নানা অনুষ্ঠানে সাড়া দিতেন, খুবই আন্তরিকতা নিয়ে ছুটে যেতেন। একারনেই দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে কামরান ভাই এর তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল।
গত ৫ জুন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৬৯ বছর বয়সী জননেতা বদরুদ্দিন আহমেদ কামরানের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার আগে ২৭ মে তার স্ত্রী আসমা কামরান কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন তাঁকে ঢাকায় নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল।
বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে তিনি সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান মেয়র মনোনীত হন। ২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জিতে মেয়র পদ ধরে রাখেন তিনি।
২০০৭-০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও অনেক রাজনীতিবিদের মত কামরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা কামরান কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হন।
২০১৩ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়ে মেয়র পদ হারান কামরান।
১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কামরান। সেই দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রায় দেড় যুগ।
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন তিনি।
আমরা মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সাথে তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক,কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ও আইনজীবী সমিতি,কুমিল্লা।লেখককে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন-০১৭১১-৩২৯৪৮৭।