শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০


নগরীর চারটি ওয়ার্ড লকডাউন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.06.2020

মাহফুজ নান্টু।।

করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৪ টি ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হবে। আগামী ২০ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে। আজ মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া জরুরী সভা শেষে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে নগরীর ৩, ১০, ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ডকে আগামী ১৯ জুন রাত থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে। এ সময় জরুরী সেবার অংশ হিসেবে হসপিটাল ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে। এমনকি কোন ডাক্তার চেম্বার করতে পারবে না। ঔষদ ও মুদি দোকান খোলা থাকবে।

সভায় জানানো হয় লকডাউনে থাকা ওই চারটি ওয়ার্ডের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসন ১০ কেজী করে চাল দিবেন। এছাড়া তেল ডাল,পেয়াজসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দিবেন সাংসদ হাজী বাহার। সভায় আরো জানানো হয়, ডিসি অফিস থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের কার্ড দেয়া হবে। লকডাউনকরা সময়ে সার্বক্ষনিক পাহারা দেওয়ার বিষয়টি স্ব-স্ব এলাকার কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। লকডাউনের আওতায় থাকা এলাকায় শুধু এটিএমে আর্থিক লেনদেন করা যাবে। কোন প্রকার ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না।

জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর জানান, লকডাউনে থাকা নগরীর অন্যান্য এলাকায় শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পুলিশ সুপার মোঃ সৈয়দ নুরুল ইসলাম আইনশৃংখলা পরিস্থিতি মনিটরিং করবেন। এছাড়াও পুলিশ সুপার কার্যালয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ও করবেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সাথে র‌্যাবের যৌথ সমন্বয় থাকবে।

অন্য এলাকা কেন লকডাউন করা হবে না এমন প্রশ্নের বিষয়ে সাংসদ বাহার বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করেছি। তারা বলেছেন বেশী আক্রান্ত এলাকাগুলো লকডাউন করা হলে আমা করা যায় করোনা সংক্রমনের পরিমান কমবে। অন্য এলাকার জন্য কি নির্দেশনা থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর বলেন,জেলার সবাই শতভাগ সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে।

সভায় জানানো হয়েছে কারো কোন উপসর্গ না থাকলে করোনার পরীক্ষা না করানোর জন্য। লকডাউনের সময় কুমিল্লা ইপিজেড সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন চাকুরীজীবীকে জোর করে কাজে না আনার জন্য মালিক কিংবা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেযা হবে।

সভায় করোনা আক্রান্ত ও রোগীর বিষয়ে ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডাঃ মজিবুর রহমান ও জেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াতুজ্জামান, ৩১ বীরের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মাহবুব আলম, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মীর শাখাওয়া, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরসহ স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।