মঙ্গল্বার ৭ জুলাই ২০২০


বৃষ্টিতে বিপাকে আশুগঞ্জের চাতালকল মালিকরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.06.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গত কয়েক দিনের ঘন ঘন ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার প্রায় ৪ শতাধিক চাতাল কলের মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। এতে করে তাদের কলে থাকা কোটি কোটি টাকা মূল্যের সিদ্ধ ধান নষ্ট হচ্ছে। সে সাথে এসব চাতালকলে সিদ্ধ ও ভিজিয়ে রাখা ধান রোদ্রের অভাবে শুকানোর কাজটি করতে না পেরে প্রতিনিয়ই লোকসানের মুখে পড়ছে মালিকরা। পরবর্তীতে রোদে শুকিয়ে এসব ধান দিয়ে চাল উৎপাদন করা হলে চালের মান যেমন নষ্ট হবে তেমনি দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে বিক্রি করতে হবে অর্ধেক দামে।
দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বৃহত্তর ধান ও চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় ৪ শতাধিক চাতালকল রয়েছে। দেশের এই চাল উত্তপাদন কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টন চাল সরবরাহ করা হয়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ওইসব মোকামে চাল সরবরাহ সম্ভব হবে না। এদিকে এসব চাতালে কর্মরত আছে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। বর্তমানে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় মজুরি পাচ্ছেন না তারা। ধার-দেনা করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন তারা।
চাতাল মালিকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে কারণে পানিতে ভেজানো ধানে চারা গজিয়ে গেছে। এছাড়া খোলা মাঠে টুপরি দিয়ে রাখা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাতাল মালিকরা। এতে করে অধিকাংশ চাতাল কলের হাজার হাজার মণ সিদ্ধ ধান নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে । ফলে চালের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
চাতালকলে র্কমরত শ্রমিকরা জানান, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পেরে গত কয়েক দিন ধরে তারা বেকার বসে রয়েছেন। এতে করে তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আশুগঞ্জ উপজেলা অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির জোবায়ের হায়দার বুলু বলেন, এমনিতেই করোনান কারনে মোকামে ধান কম আসছে তারমধ্যে আবার বৃষ্টি। করোনা এবং বৃষ্টি এই দুইয়ের কারণে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের আমদানি এমনিতেই কম। বর্তমানে উপজেলার শতাধিক চাতালকলে প্রায় অর্ধলক্ষ টন ধান সিদ্ধ করে রাখা আছে। বাকি চাতালগুলোতে অর্ধলক্ষ টন ধান রয়েছে হাউজে ভেজানো। টানা বৃষ্টির কারণে এসব ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে করে মিল মালিকদের আর্থিক ক্ষতি হবে।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর হাওর অঞ্চল কিশোরগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশুগঞ্জ মোকামে প্রতিদিনই আসছে হাজার হাজার মণ ধান। আর এসব ধান স্থানীয় রাইস মিলে প্রক্রিয়াজাত করে চালে পরিণত করে ঢাকা, চট্টাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও নৌপথে সরবরাহ করে এসব এলাকার চালের চাহিদা পূরণ করা হয়।