সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


করোনা আক্রান্ত বাবার সেবায় বেডের পাশেই ছেলে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.06.2020

মাসুদ আলম।।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা ওয়ার্ড। বাবা মোঃ হাসান (৬৫) করোনায় আক্রান্ত। শয্যা পাশে বসেই সেবা দিচ্ছেন বড় ছেলে তাজুল ইসলাম জনি (৩০)। জনি আক্রান্ত হননি, সুস্থ। তার বাবা হাসান ১৩ দিন ধরে করোনায় কাতর। চিকিৎসা চলছে। জনি জানালেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা একা থেকে অসহায় হয়ে পরেন। পরিবার নিকটজনদের দেখা-সেবা কিছুই পায়না, তারা কাছেও আসে না। প্রায় সবারই পরিবার-পরিজনের এমন অববহেলা-অযতœ সইতে হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন মৃত্যু বাড়ছে, আক্রান্ত ভর্তি হচ্ছে। এক বিভীষিকাময় পরিবেশ। তিনি শুরু থেকেই বাবাকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য জনিকে হাসপাতালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পরা অবস্থায় পাওয়া যায় নি, এ ব্যাপারে সচেতনও মনে হয়নি। জানতে চাইলে বলেন, মাস্ক ব্যবহার করেন। চরম এ সময়ে সব ঝুঁকি ছাপিযে আক্রান্ত পিতার শয্যা পাশে পুত্র-সাধারণের মুখে মুখে এটিই সমাদৃত হচ্ছে।
জনি জানালেন, ২৯ মে উপসর্গ দেখা দেয়ায় নিজ চাকুরীস্থল সিডি প্যাথ হাসপাতালে ভর্তি হন তার বাবা। এক জুন তার নমুনা নেয়া হয়। তিন জুন রিপোর্ট পজেটিভ আসে। চার জুন তাকে কুমেকে স্থানান্তর করা হয়। তার অক্সিজেন চলছে। শরীর ভেঙ্গে গেছে। তারা দুই ভাই। ছোট ভাই লন্ডনে থাকেন। ওখানের ক্রিকেটার। দুই বোন রয়েছেন। জনি কুমিল্লাতেই থাকেন, কুমিল্লা পৌরপার্কে বাবার রাইড পরিচালনা করেন।
স্থানীয়রা জানান, হাসান ভাইকে সবাই পরোপকারী বলেই চেনেন-জানেন। বাড়ি চান্দিনায় । ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়ে পাঁচ ভাই-বোনসহ মাকে নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর দশেক আগে কুমিল্লা শহরের গাংচরে বসতি শুরু করেন। একসময়ে ১৯৮০ সনে সিডি হাসপাতাল শুরু হলে চাকুরী শুরু করেন। সিডি হাসপাতালেরও সবার আপনজন হাসান।
সাবেক ক্রিকেটার ফখরুল আলম উল্লাস বলেন, অন্যের বিপদে ঝাপিয়ে পরা হাসানকে গাংচর এলাকার আমার বয়সীরা মামা বলেই ডাকি। টাকা নেই, জ্ঞানও স্বল্প, ছোট চাকুরে করা মানুষটি কুমিল্লায় আমিসহ অনেককেই ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে শ্রম দিয়ে অবদান রেখেছেন।
কুমিল্লা জেলা ক্রিড়া সংস্থার অন্যতম যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল আলম চপল বলেন, তার ছেলের এ পিতৃপ্রেম আসলে অসাধারন এ মানুষটির উত্তরাধিকার। হাসান এলাকার সবার আপন, বিপদে পাশে দাঁড়ায়, চাকুরীস্থল হাসপাতালেও তাই। খেলার মাঠেও একই। এই চরম দুঃসময়েও ছেলে-পরিবার তাকে ছেড়ে যায়নি, জীবন বাজি রেখে ছেলে শয্যা পাশেই রয়েছে।