বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০


আজ থেকে নগরীর চার ওয়ার্ডে কঠোর লকডাউন শুরু


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.06.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে কুমিল্লা নগরীর চারটি ওয়ার্ডে। করোনা সংক্রমণ রোধে এসব ঝুঁকিপূর্ণ চারটি ওয়ার্ডকে (কোথাও সম্পূর্ণ, কোথাও আংশিক) লকডাউন করা হবে। লকডাউন চলবে আগামী ৩জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লকডাউনকৃত এলাকাসমূহের জন্য নির্দেশনা জারি করে। লকডাউনকৃত এলাকাসমূহ হলো- ৩নং ওয়ার্ডের রেসকোর্স কালিয়াজুরি মৌজা, পুলিশ লাইন-শাসনগাছা মৌজা (আংশিক) ও ছোটরা মৌজা (আংশিক); ১০ নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা (ছোটরা ও কান্দিরপাড় মৌজার অংশ), বাগিচাগাঁও (কান্দিরপাড় মৌজার অংশ); ১২ নং ওয়ার্ডের উত্তর চর্থার মৌজা ও বজ্রপুর মৌজার অংশ; ১৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর্থা।
লকডাউনকৃত এলাকাসমূহে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য আলাদাভাবে ইন এবং আউট পয়েন্ট থাকবে। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাউন্সিলররা স্বেচ্ছাসেবক টিম করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গত দু-তিনমাসের মতো ঢিলেঢালা লকডাউন না করে এবার কঠোর লকডাউনের দিকে হাঁটবে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতিকরা।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয় রেডজোনকৃত এলাকায় কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে দিনে একবার প্রবেশ ও একবার বের হতে পারবে। তফসিলি ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম, যেমন-টাকা উত্তোলন ও জমাদান এটিএমের মাধ্যমে করা যাবে। চাকরিজীবীদের বাসায় থেকে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। মুদি, রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে হোম ডেলিভারি চালু থাকবে। কাঁচাবাজারে সীমিত সময়ের জন্য যাওয়া যাবে। বিনোদনকেন্দ্র, জরুরি পরিষেবার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। রেডজোনকৃত এলাকায় কোন যান চলাচল করবে না। মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতি ওয়াক্তে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমসহ পাঁচজন ও জুমার নামাজে সর্বোচ্চ দশজন অংশগ্রহণ করতে পারবে। রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক পরতে হবে। তবে কোনোপ্রকার ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, ভ্যান ব্যবহার করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দাসংস্থা, লকডাউন বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের জরুরি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়, যেহেতু কুমিল্লা জেলায় সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে সংক্রমণের চূড়ায় রয়েছে, তাই এসব এলাকায় মানুষের চলাচাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করবে। তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের স্মারকের মাধ্যমে এসব এলাকা লকডাউন করা হলো।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ বলেন, এ ওয়ার্ডের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ঈদের আগে এ ওয়ার্ডে মাত্র একজন করোনা রোগী ছিল। ঈদের পর ৪৭জন। আর ১৮তারিখে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০জনে। এ অবস্থায় শিথিলতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা ৫০জনের একটা ভলান্টিয়ার টিম করেছি। ওয়ার্ডের ১১টি পয়েন্টের মধ্যে একটা পয়েন্ট (বাদশাহ মিয়া বাজার) প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য খোলা রাখা হবে। বাকি দশটি পয়েন্ট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ইন এন্ড আউট পয়েন্টে পুলিশের একজন এসআই ও কনস্টেবলরা থাকবে। এ এলাকার চারশ’ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কেউ খাবার সংকটে ভুগবে না।
নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনজুর কাদের মণি জানান, এ ওয়ার্ডে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর হিসেবে আছি। এখানকার প্রতিটা মানুষকে আমি চিনি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টিম মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে। কেউ কোনো সংকটে পড়বে না। একটা ইন এন্ড আউট পয়েন্ট রাখা হয়েছে। রানির বাজার অভয় আশ্রমের পাশের পয়েন্ট দিয়ে মানুষ জরুরি কাজে বের হবে এবং প্রবেশ করবে। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। সবাইকে নম্বর দেওয়া আছে। কারও অসুবিধা থাকলে আমাকে কল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইমরান বাচ্চু জানান, সন্ধ্যায় একটি মিটিং হবে। কার্যকরণ নিয়ে মিটিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আমাদের ওয়ার্ডে প্রবেশের জন্য চারটি ইন এন্ড আউট পয়েন্ট থাকবে। ওয়ার্ডের ভেতরে ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ থাকবে।
এ ব্যাপারে কথা হলে ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখওয়াত হোসেন বলেন, লকডাউনের ব্যাপারে মিটিং করছি। মিটিংয়ে লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। জেলা পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করবেন। এছাড়াও পুলিশ সুপার কার্যালয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ও করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সাথে র‌্যাবের যৌথ সমন্বয় থাকবে। এ সময় কোন চাকরিজীবীকে জোর করে কাজে না আনার জন্য মালিক কিংবা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হবে।