সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


কুমিল্লায় আক্রান্ত অনুপাতে সুস্থতার হার কম, মৃত্যুহার বেশি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.06.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।কুমিল্লায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দিনে দিনে কুমিল্লার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বিশেষ করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চারটি ওয়ার্ড।
সারাদেশে যে পরিমাণ করোনা রোগী শনাক্ত ও সুস্থ হচ্ছে, সে তুলনায় কুমিল্লায় বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আনুপাতিক হারে সুস্থ হচ্ছে অনেক কম রোগী। আবার সারাদেশের তুলনায় কুমিল্লায় নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীর হার অনেক বেশি।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কুমিল্লায় ১৪হাজার ১৯৪টি ফলাফলের বিপরীতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২হাজার ৪৭১জনের। আর সুস্থ হয়েছে ৬৯৭জন। নিশ্চিত আক্রান্ত অনুসারে সুস্থতার হার ২৮দশমিক ২০শতাংশ। সারাদেশে শুক্রবার পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৫হাজার ৫৪৮টি নমুনার বিপরীতে করোনা আক্রান্ত হয় ১লাখ ৫হাজার ৫৩৫জন। সুস্থ হয়েছে ৪২ হাজার ৯৪৫জন। সুস্থতার হার ৪০দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ সারাদেশের তুলনায় কুমিল্লায় সুস্থতার হার ১২দশমিক ৪৯শতাংশ কম। শুক্রবার পর্যন্ত কুমিল্লায় মারা গেছে ৭১জন। যা নিশ্চিত শনাক্ত করোনা রোগীর ২দশমিক ৮৭শতাংশ। আর সারাদেশে মারা গেছে ১হাজার ৩৮৮জন। যা নিশ্চিত করোনা শনাক্ত রোগীর ১দশমিক ৩২শতাংশ। সারা দেশে ১৬ কোটি ৪৬লাখ ৩৬ হাজার ৩৮৫ জন জনসংখ্যা বিবেচনায় প্রতি দশলাখ জনসংখ্যায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩হাজার ৫৫৭জন। আর কুমিল্লার জনসংখ্যা ৫০ লাখ বিবেচনায় প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭জন।
কি কারণে কুমিল্লায় সুস্থতার থেকে মৃত্যুর হার বেশী জানতে চাইলে বিএমএ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম বলেন, পরিসংখ্যানগত নানা কারণে এমন হতে পারে। কুমিল্লায় করোনার সাথে অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই মৃত্যুহার বেশি হতে পারে। সে সাথে বয়সেরও একটা ব্যাপার থাকতে পারে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, কুমিল্লা মেডিকেলে নিশ্চিত করোনা হয়ে মারা গেছে কিংবা মারা যাওয়ার পর রিপোর্টে ফল পজিটিভ এসেছে, এসব তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সরবরাহ করা হয়। করোনার চেয়ে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক সময় আমাদের কাছে মনে হয় লোকটি করোনায় মারা গেছে। কিন্তু ফল না আসা পর্যন্ত তা ঘোষণা করার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে আমার ধারণা, সারাদেশের পরিসংখ্যানের সাথে আমাদের তেমন কোনো পার্থক্য হবে না।
এ বিষয়ে কথা হলে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, কুমিল্লা ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী জেলা। হাইওয়ে থাকার কারণে সারাদেশ থেকে খুব সহজে অন্যান্য জেলার মানুষ প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় পরীক্ষা করতে গিয়ে আমরা দেখি লোকটি অন্য জেলা থেকে এখানে পালিয়ে এসেছে। এখানে যেমন অন্য জেলার মানুষের আসা-যাওয়া আছে, আবার এ জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ অন্য জেলায় কাজের সুবাদে আসা-যাওয়া করে। ফলে সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। গণপরিবহনগুলো কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। সারাদিনে ৫জন রোগীও যদি নিয়ম ভেঙে গণপরিবহনে যাত্রা করে, তবে এক হাজার জনের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বারাবার জোর করেও পুলিশ-প্রশাসন কাউকে নিয়ম মানাতে পারছে না। জেলার মোট আক্রান্ত রোগীর ২৫শতাংশ সিটি করপোরেশনের। অথচ এখন কান্দিরপাড়ে গেলে দেখা যাবে মানুষের ভিড়, সিএনজি অটোরিকশায় চাপাচাপি।
সুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, কুমিল্লায় সুস্থ অনেক বেশি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭শ’র কাছাকাছি সুস্থ হয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ায় সুস্থতার হার কম মনে হচ্ছে। মানুষ যদি নিয়ম ভাঙে, সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। আপনি ইচ্ছা করে বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে যান, নিয়ম ভাঙেন, আমরা যাব কোথায়!