বুধবার ৮ জুলাই ২০২০


আজীবন খদ্দরের পায়জামা পাঞ্জাবী পড়েছেন নীতিবান কামাল লোহানী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.06.2020

বাকীন রাব্বী।।
কামাল লোহানী সাহেবের সাথে অনেক আগে থেকেই আমার পরিচয়। তখন তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহা-পরিচালক। আমোদ-এর জন্য লেখা আনতে ও পত্রিকা দিতে কয়েকবারই আমি তাঁর কলাবাগানের বাসায় গিয়েছিলাম। যদিও এখন উনি আর সে বাসায় থাকেন না। এখন থাকেন ধানমন্ডির একটা এপার্টমেন্টে, নাম অরুনিমা। আমি তাঁর অরুনিমা বাসায়ও গিয়েছি একাধিকবার। ২০১৬ সালের দিকে তিনি অন্য একটা অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় এসেছিলেন, তখন আমোদ অফিসেও এসেছিলেন কামাল লোহানী। তিনি আজীবন খদ্দরের পায়জামা পাঞ্জাবী পড়েন।
১৯৭৯ বা ৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফর সঙ্গী হয়ে তাঁর একটা বিদেশ সফরের কথা ছিল। আমরা শুনেছিলাম এয়ারপোর্ট যাওয়ার পর তাঁকে প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। বেশ কয়েক বছর আগে কামাল লোহানী সাহেব থেকে লেখা আনতে গিয়ে ঐ বিষয়টা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।
তিনি বলেন- সফরের আগের দিন প্রেসিডেন্টে জিয়ার মিলিটারী সেক্রেটারী আমার বাসায় আসেন এবং জানতে চান আমি পায়জামা পাঞ্জাবী ছাড়া অন্য কোন পোষাক পড়ি কি না। আমি, না বলাতে তিনিও বিনীত ভাবে বলেন, তাহলে আপনার নাম সফর সঙ্গীর তালিকা থেকে আমাদের বাদ দিতে হবে। এর জবাবে লোহানী সাহেব মিলিটারী সেক্রেটারীকে বলেছিলেন- প্রেসিডেন্টের সাথে দুই দিনের সফর সঙ্গী হওয়ার জন্য আমি সারা জীবনের নীতি ত্যাগ করতে পারবো না।
ঘটনা এখানেই শেষ না। ঐ সফরে সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ূনেরও যাবার কথা ছিল, তিনি অবশ্য স্যুট টাই পরেন। আহমেদ হুমায়ূন সাহেব কামাল লোহানীর এই ঘটনা শোনার পর একটু ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি লোহানী সাহেবকে বললেন- আমিও আপনার সাথে সংহতি প্রকাশ করে এ সফরে যাওয়া থেকে বিরত থাকবো। যদি কিছু হয় দু’ জনেরই হবে। আহমেদ হুমায়ূন সাহেবও তাঁর নাম সফর তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে নেন।
অবশেষে কারোরই কিছু হয় নি, প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় কোন প্রকার কর্ণপাতই করেন নি।
নীতিবান এ কামাল লোহানীর প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক : সাপ্তাহিক আমোদ সম্পাদক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক,কুমিল্লা প্রেস ক্লাব।