সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


চৌদ্দগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দোকানঘর ভাঙচুর-লুটপাট,থানায় মামলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.06.2020

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলায় দোকান মালিক সাইফুল ইসলাম আহত হয়েছেন। গতকাল চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযুক্তদের নামে অভিযোগ করা হয়ছে।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় সোমবার সকালে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের খিরণশাল বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা ও কুমিল্লা র‌্যাব অফিসে খিরণশাল গ্রামের খোকন পাটোয়ারী, তার ছেলে সুমন পাটোয়ারী, মহিন পাটোয়ারী, আমজাদ হোসেন রায়হান, স্থানীয় জসিম ও মিশু মুহুরীসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দায়েরকৃত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খিরণশাল বাজারের সাইফুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর নামের দোকানঘরের জায়গা নিয়ে হামলাকারীদের সাথে সাইফুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। বিরোধ মিমাংশার জন্য তারা সাইফুলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিল এবং টাকা না দিলে ভবিষ্যতে সাইফুলকে মারধরসজ দোকানঘর দখলে নিবে হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল পৌনে দশটায় দোকানঘর মেরামতের সময় সাইফুল ইসলামের উপর চাপাতি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় সুমন পাটোয়ারী ও তার ভাইসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সাইফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা সাইফুল ইসলামের গলায় থাকা ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন, দুইটি মোবাইল সেট, মানিব্যাগে থাকা ১৩০৫৫০ টাকা, দোকানের ক্যাশে থাকা প্রায় ১৩ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায়। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দোকান ঘরটি তছনছ করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। সাইফুল ইসলামের চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে বাজারের লোকজন আহত সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইফুল ইসলামকে কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সোমবার রাত দশটায় সুমন পাটোয়ারী বলেন, ‘৪-৫ বছর পূর্বে থেকে দোকান ঘরের জায়গাটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই জায়গাটি সাইফুলের জেঠি মর্জিনা বেগম থেকে আমি কিনেছি। সোমবার সকালে আমার বাবা সেখানে গেলে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ের উভয় পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে’।