সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


নগরীতে নারী কাউন্সিলরের বাসায় গুলি ভাঙচুর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.06.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
নিজে ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১০,১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর রুমা আক্তার সাথী। এনিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই কাউন্সিলর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর ৩টার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আমি ও আমার স্বামীর ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে শুনি কিছু লোক চিৎকার ও গালমন্দ করে বলছে, ‘রাকিব (আমার আমেরিকা প্রবাসী দেবর) বাইর হও, আজকে তোরারে গুলি কইরা মাইরা লামু’। এসময় তারা স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ির গেট ও দরজা জানালায় ভাঙচুর চালাতে থাকে ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। আমরা ভয় পেয়ে কোতয়ালী থানায় ফোন দেই। রাত চারটার সময় কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। বিষয়টি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। মেয়রকেও ফোন করেছিলাম কিন্তু পাইনি। স্থানীয় এমপি মহোদয় যথাযথ বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও জানালা দিয়ে তাকিয়ে আমরা তাদের চিনতে পারি। তারা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। ফাঁকা গুলি ছোঁড়া মহিউদ্দিন নগরীর তেলিয়াপুকুর পাড়ের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মহিউদ্দিন হোসেন (৩৪)। তার বিরুদ্ধে থানায় পাঁচটি মামলার রয়েছে। হামলাকারী অপর দুজন হলেন উত্তর চর্থার মৃত নজির মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম রনি (৩৮) যিনি ভাগিনা রনি নামে পরিচিত ও তাদের সহযোগী মুরাদপুর চৌমুহনীর জিয়া উদ্দিনের ছেলে আজহার উদ্দিন বাবু। সাইফুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে থানায় তিনটি মামলা আছে। তাদের সাথে আমাদের পূর্বশত্রুতা নেই। তারা কেন এ কাজ করল, তা বুঝতে পারছি না।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সংরিক্ষত আসনের এই নারী কাউন্সিলর আরো বলেন, মহিউদ্দিন,রনি ও বাবু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তারা কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ করে কেন আমার বাসায় এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করল কা এখনো আমরা বুঝতে পারছি না। তারা যে কোন সময় আবারো যে কোন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। আমরা ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছি। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি,আপনারা অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর সাথীর স্বামী ওমর শরীফ সিদ্দিকী।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক জানান, কাউন্সিলর রুমা আক্তার সাথী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত করতেছি। তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।