বুধবার ৮ জুলাই ২০২০


কুমিল্লা নগরীর চারটি ওয়ার্ড: স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়াবাড়ি,চুরি লকডাউন বেড়া!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.06.2020

মাহফুজ নান্টু।।

করোনা সংক্রমণ রোধে নগর কুমিল্লার চারটি ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়। গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত। গতকাল পঞ্চম দিন শেষ হলো। তবে লকডাউনের এ পাঁচ দিনে স্বেচ্ছাসেবীদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে। অন্য দিকে রাতে বিরাতে নানান ফরমায়েশ পেয়ে ত্যক্ত বিরক্ত স্বেচ্ছাসেবীরাও। এদিকে ১০ নং ওয়ার্ডের প্রিন্সরোডে লকডাউনের বেড়া চুরি হয়ে যায়।
গত ২১ জুন। নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডে সুমন সালাউদ্দিন নামে এক সংবাদকর্মীর অন্তস্বত্বা স্ত্রীর সাথে অমানবিক আচরণ করেছেন লকডাউনের গেইটে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবকরা। পরে বহু কষ্টে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। এ নিয়ে ওই সংবাদকর্মী তার ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেন। যার সবটাই ছিলো তার স্ত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া এক নির্মম কাহিনী।
রেইসকোর্সে বসবাসরত চিকিৎসকরা জানান, লকডাউনে কারা বের হতে পারবে কারা বের হতে পারবে না এ বিষয়ে জানেন না স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হওয়ার আশংকা আছে। তাই নিরবে সয়ে যান চিকিৎসকরা।
তবে ৩ নং ওয়ার্ডে লকডাউনে মানুষ বিড়ম্বনার স্বীকার এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ। তিনি জানান, নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড রেডজোনের আওতাভুক্ত। নানান উছিলায় মানুষ ঘর থেকে বের হয। এ সময় হয়তো কোন স্বেচ্ছাসেবীর সাথে টুকটাক বাকতি-া হয়। তবে সেই বাকবিত-া কখনই অসৌজন্যমূলকভাবে করা হয় না। কাউন্সিলর জাবেদ আরো বলেন, ৩ নং ওয়ার্ডে পুলিশ চিকিৎসকরা বাস করে। তারা প্রতিদিন যাওয়া আসা করে। এভাবে ৩ নং ওয়ার্ডে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। আমি পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করবো চিকিৎসক ও পুলিশ যারা ৩ নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন তাদের যেন আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত ছুটি দেয়া হয়। অন্যথায় করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
এদিকে ১০ নং ওয়ার্ডের নবাববাড়ী চৌমুহনীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। নানুয়ার দিঘীরপাড় হয়ে সকালে ইপিজেডের গার্মেন্টকর্মীদের যেতে দেয়া হলেও ডাক্তারদের যাওয়া নিয়ে তুমুল বিরোধ ঘটে স্বেচ্ছাসেবীদের। এছাড়াও ১০ নং ওয়ার্ডবাসী জানান, সকালে অন্তত পাঁচ হাজার গার্মেন্টস ওয়ার্কার বের হয়ে যায়। তারা আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসে। লকডাউন করা গেইটে কোন জীবানুনাশক টানেল নেই। নেই হ্যান্ড ওয়াশ করার ব্যবস্থা। এই যে লকডাউনে এতগুলো লোক বাইরে যায়,সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসে। এভাবে লকডাউন সফল হবে না। এছাড়াও প্রতিদিনই লকডাউনকৃত গেইটে স্থানীয়দের সাথে বাকবিত-া সৃষ্টি হচ্ছে।

নবাববাড়ী চৌমুহনী নগর মাতৃসদনে দায়িত্ব পালন করেন ডাঃ ফারজানা জনি। তিনি জানান, একজন ডাক্তার হওয়ার পরেও প্রতিনিদিন নবাববাড়ী চৌমুহনীতে এসে স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বাকবিত-া সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি স্বীকার করেন ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইমরান বাচ্চু। তিনি জানান, আমরা কি করবো। সিদ্ধান্ত হলো লকডাউনকরা এলাকার বাসিন্দারা বাসায় বসে অফিসের কাজ করবেন। অথবা তারা সাধারণ ছুটির আওতাধীন। কিন্তু কারো অফিস থেকে ছুটি দেয়া হয় নি। ফলে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। মানবিক কারণে আমরা তাদের যেতে দেই। তবে এতে করে লকডাউন শতভাগ সফল হবে না। আমার ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিনিয়ত মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ডাক্তারের বিষয়টা নিয়ে নগর মাতৃসদন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। ডাক্তারকে না চেনার কারণে অনাকাংখিত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন স্বাভাবিক। গামেন্ট ওর্য়াকারদের জন্য টানেলের বিষয়ে কাউন্সিলর ইমরান বাচ্চু জানান, জীবানুনাশক টানেল সরকার অনুমোদিত নয়। তবে আমরা হ্যান্ড ওয়াসের ব্যবস্থা করেছি। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই।
অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে লকডাউন চলছে নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডবাসীর একাংশ জানালেন স্বেচ্ছাসেবীরা চরম দুর্ব্যবহার করছে। আবার স্বেচ্ছাসেবীদের অভিযোগ ওয়ার্ডবাসী লকডাউন পালনে সহযোগতিা করছে না। ওর্য়াডবাসীর অভিযোগ আমরা ঘরে থাকছি। তবে এই ওয়ার্ডে অন্তত ৪-৫শ’ শ্রমিক অনায়াসে ইপিজেডে যাওয়া আসা করছে। তাহলে ওয়ার্ডে করোনা সংক্রমণ সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে কাউন্সিলর শাখাওয়াত উল্লাহ শিপন জানান, আমরা চেষ্টা করছি লকডাউনে যেন কারো কোন সমস্যা না হয়। তবে ওয়ার্ডে অনেক গার্মেন্টসকর্মী থাকে। তাদের জন্য মানবিক হতে হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্ব্যহারের বিষয়ে কাউন্সিলর শিপন বলেন, এত মানুষের আবদার রাখতে গিয়ে ছোটখাটো ভুলবুঝাবুঝি হয়। তবে লকডাউন করা হয়েছে ওয়ার্ডবাসীর জন্য। এখন ওয়ার্ডবাসী যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে কিভাবে আমরা করোনা মুক্ত হবো।
খুব একটা সমস্যা নেই নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে। এখানে শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে লকডাউন পালন হচ্ছে। তবে গত মঙ্গলবার রাতে ১০ নং ওয়ার্ডের প্রিন্সরোডে লকডাউনের বেড়া চুরি হয়ে যায়। এছাড়া ওই ওয়ার্ডে আর তেমন সমস্যা নেই। স্থানীয়রা জানালেন তারা লকডাউনের নিয়ামাবলী মেনে দিন পার করছেন। কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের মনি জানান, ১০ নং ওয়ার্ডে সরকারি নির্দেশনা মেনেই চলছে লকডাউন।