সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


সাপের কামড়ে ওঝার কাছে নয়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.06.2020

এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান ।।

সাপ যখন নিজে ভয় পায় বা সে যখন মনে করে আপনি তাকে আক্রমন করবেন, তখনই সে নিজেকে বাচানোর জন্য আপনাকে কামড়ে দিয়ে ভয় পাইয়ে দেয়। আর এ সুযোগে ওঝা আপনাকে বোকা বানিয়ে অর্থ কামিয়ে নেয়।ওঝাদের সবকিছুতেই ভুয়ামি। ওরা যা করে দেখায় সবকিছু আপনার মানসিক অবসাদের সুযোগে ভেল্কি দেখায় মাত্র।
তাই সাপের কামড়কে ভয় নয়, সাহসের সাথে ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলা করতে হয়।
প্রাণীবিদ্যায় অনার্স পড়তে গিয়ে জেনেছি, সাপ দু ধরণের থাকে, নির্বিষ আর বিষাক্ত। বাড়ীর আশেপাশে ঝোপঝাড়ের ৯০-৯৫ ভাগ সাপই নির্বিষ সাপ। যেগুলি আমরা মাইট্টা, ধুড়া….. ইত্যাদি নামে চিনি। আর ৫ ভাগ সাপ হতে পারে বিষাক্ত।
সাপ কামড়ালে কিভাবে বুঝব যে এটা বিষাক্ত না নির্বিষ সাপের কামড়? একেবারেই সহজ। যদি ঠিক থ থ সমান মাপের ২/৪ টি দাগ পড়ে , তবে নিশ্চিত বিষাক্ত সাপ। তখন জাস্ট ওড়না/শাড়ীর আচল দিয়ে বেঁধে দিয়ে নিয়ে সোজা হাসপাতালে। প্রতিটা হাসপাতালে ভেনোম টিকা বা অন্যান্য সকল ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। অবশ্যই দড়ি বা সুতলি দিয়ে বাধবেন না । দড়ি দিয়ে বাঁধলে পুরো রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে পা চিরস্থায়ী ডেমেজ অথবা রোগী মূর্ছা যেতে পারে।
এ ছাড়া অন্য যে কোন “এবড়ো থেবড়ো” দাগ মানে নির্বিষ সাপের কান্ড। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি নিশ্চিন্ত। কোথাও যাওয়ার দরকার নাই, না ওঝা, না হাসপাতালে।
পুনশ্চঃ ফার্মেসী তে “কার্বনিল এসিড” নামে ছোট বোতল পাওয়া যায়। ২টা বোতল কিনে বাড়ির দুপাশে বোতলের মুখটা খোলে মাটিতে ডেবে দিলে কোন সাপই বাড়ির আশেপাশে আসবে না।

লেখকঃ প্রাণিবিদ্যার সাবেক ছাত্র ও
যমুনা ব্যাংক কর্মকর্তা। মোবাইল :০১৯১৩-৫৭৮৪৯৪।