বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০


চান্দিনায় করোনা আক্রান্ত সিংহভাগ পৌরসভায়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.06.2020

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা ।।
করোনা ভাইরাসের সংক্রামিত উপজেলার সাথে চান্দিনা উপজেলার নাম যুক্ত হয় ১৪ এপ্রিল।  দেবিদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক করোনা রোগীর চিকিৎসা কাজে যুক্ত থাকায় সংক্রামিত হয় উপজেলার এতবারপুর গ্রামের এক নারী। তারপর থেকে শুরু হয় চান্দিনায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ছড়িয়ে পরে করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত রোগী। এর মধ্যে সিংহ ভাগই চান্দিনা পৌর এলাকার বাসিন্দা। সংক্রামিত ব্যক্তির পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও এগিয়ে চান্দিনা পৌর এলাকা।
দ্রুত চান্দিনা পৌর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- চান্দিনা উপজেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রামন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১শত ৭৫জন আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র চান্দিনা পৌরসভায় ১শত ৭জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী উপজেলা জুড়ে মৃত্যু ১১জন মৃত্যু বরণ করলেও প্রকৃত ভাবে এ উপজেলায় মৃত্যু ঘটেছে ১৩জনের। এর মধ্যে শুধুমাত্র পৌর এলাকায় মৃত্যু ঘটেছে ৬জনের। আর পৌর এলাকার মধ্যে চান্দিনা বাজার, মহারং, হারং এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব বেশি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাধাইয়া ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের ১৮জন আক্রান্তের পাশাপাশি ১জন মৃত্যু বরণ করে। কেরনখাল ইউনিয়নে ১০জন করোনায় আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যু হয় ২জনের, মাইজখার ইউনিয়নে ১৪জন আক্রান্তের সাথে মৃত্যু ৩।
এছাড়া আক্রান্ত হয় দোল্লাই নবাবপুরে ৫জন, গল্লাই ইউনিয়নে ৫জন, বরকরই ইউনিয়নে ৩জন, বাড়েরা ইউনিয়নে ৩জন, জোয়াগ ইউনিয়নে ২জন, মহিচাইল ইউনিয়নে ৪জন, এতবারপুর ইউনিয়নে ১জন, বরকইট ইউনিয়নে ১জন।
চান্দিনা পৌর এলাকার একাধিক সচেতন নাগরিক জানান- যেহেতু করোনা আক্রান্তের দুই তৃতীয়াংশই পৌর এলাকার সেহেতু পৌর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন নিশ্চিত করা করা একান্ত জরুরী।
এ ব্যাপারে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ¯েœহাশীষ দাশ জানান- এখন পর্যন্ত মহানগরী এলাকাগুলোতে ৩টি জোনে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে রেড জোন, ইউলো জোন বা গ্রীণ জোনে ভাগ করার জন্য কোন নির্দেশনা আসেনি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন স্যারের সাথে আলোচনা করবো।