সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


অযত্নে অবহেলায় চাঁন্দনাগেরচর জমিদার বাড়ি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.06.2020

মো. মহসিন হাবিব,তিতাস।।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চাঁন্দনাগেরচর গ্রামে অবস্থিত ১২৮ বছরের পুরোনো মুসলিম জমিদার বাড়িটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিতাস উপজেলা একটি মুসলিম প্রধান অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল তার প্রমাণ হচ্ছে এই মুসলিম পরিবার ও জমিদার বাড়ি। অথচ একশত আটাশ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যটি রক্ষায় এ যাবত কেউ এগিয়ে আসেনি। বৃহত্তর দাউদকান্দি উপজেলা থেকে ভাগ হয়ে আসা তিতাস উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি তিতাস উপজেলা থেকে প্রায় ৩কিলোমিটার দক্ষিণে ও দাউদকান্দি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর বাজার থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
নিপুণ কারুকাজ ম-িত ৩টি বাড়ি নির্মাণ করেন মাহাতাব ভুইয়া তার দুই ছেলে আশ্রুফ ভুইয়া এবং আরমান ভুইয়ার নামে। ২৩ কক্ষবিশিষ্ট রয়েছে তিনটি ভবন। প্রথম ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ৩টি করে ৬ টি কক্ষ, দ্বিতীয় ভবনের নীচ তলায় ৫টি ও দ্বিতীয় তলায় ৩টি কক্ষ ও তিন তলা বিশিষ্ট তৃতীয় ভবনের প্রথম তলায় ৪ টি দ্বিতীয় তলায় ৪ টি ও তৃতীয় তলায় রয়েছে একটি বারান্দার মতো খোলা কক্ষ। এই জমিদার বাড়িটির পাশে রয়েছে শৈল্পিক কারুকার্য খচিত কয়েকটি কক্ষ, রয়েছে একটি আন্ধার কোটা যেখানে রাখা হত কাচাঁ পয়সা ও স্বর্ণ মুদ্রা, একটি মসজিদ যেটি এখন সংস্কার করা হয়েছে মুসল্লিদের নামাজের জন্য, বৈঠক খানা যেখানে বসে জমিদারগন বিচারকার্য পরিচালনা করতেন এবং রয়েছে একটি ৬০ ফুট গভীর ইন্দ্রা কুপ এই কুপের পানি মুসল্লিরা ওযুর কাজে ব্যবহার করতেন। আজও মুসল্লিরা নামাজ পড়তে এসে অজুর কাজে এই কুপের পানি ব্যবহার করেন, যদিও সংস্কারের অভাবে কুপের পানি থেকে দুর্গন্ধ আসে।
দীর্ঘদিন ধরে অযতœ-অবহেলায় ধ্বংস হতে বসেছে জমিদার বাড়িটি। ইতোমধ্যে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে এর অবকাঠামো। সংস্কারের মাধ্যমে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ফুল মেহের বিবি (৯৮) জানান , ্একশত সাতাশ বছর নয় মাস পূর্বে র্নিমতি জমিদার বাড়ির এই তিনটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল বাংলা সাল ১২৯৯ তে এবং নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ১৩০৬ সালে। ভবন তিনটি নির্মাণে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ বছর। সেই জমিদার বাড়ির ভবন তিনটি নির্মাণে ইটের যোগান দিতে জমিদার মাহতাব ভুইয়া নিজেই একটি ব্রিক ফিল্ড তৈরি করেছিলেন।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আ. সামাদ ভুইয়া (৮৫) ও জসিম উদ্দিন ভুইয়া (৭৫) ,বিশিষ্ট সমাজসেবী মো. মহসিন মাস্টার, হাসান মো. ডালিম ভুইয়াসহ এলাকাবাসী জানান, জমিদার মাহতাব ভুইয়া মারা যাওয়ার পর তার দুই ছেলে আশ্রুফ ভুইয়া এবং আরমান ভুইয়া জমিনদারি দেখভাল করতেন। পরবর্তীতে নাতি মুল্লুক চাঁদ ভুইয়া, নজুমদ্দিন ভুইয়া, আলিমুদ্দিন ভুইয়া, উজির ভুইয়া, নজির ভুইয়া, কালাই ভুইয়া, মজু ভুইয়াকে জমিদার বাড়িটিতে বসবাস করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে তার উত্তরসুরীরা কেউ গ্রামে কেউ শহরে আবার কেউ বিদেশ পাড়ি দেওয়ায় জমিদার বাড়িটি অবহেলায় অযতেœ পড়ে আছে।
মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক সরকার এ প্রসঙ্গে জানান, প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি মজিদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্য। এটি সংরক্ষণ ও দর্শনীয়ভাবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. রাশেদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে মজিদপুর চাঁন্দনাগেরচর অবস্থিত মুসলিম জমিদার বাড়িটির কথা যখন আমার কানে এসেছে এ ব্যাপারে ভাবতে হবে।
এ বিষয়ে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান জানান, এখন যদি করোনার প্রার্দুভাব না থাকত সবার আগে এই মুসলিম জমিদার বাড়িটি পরির্দশন করতাম। বিশেষ করে বাংলাদেশে মুসলিম জমিদার বাড়ির সংখ্যা খুবই কম। তিতাসের চাঁন্দনাগেরচর গ্রামের জমিদার বাড়িটি আমাদের সার্ভেতে নেই। পরির্দশনে জমিদার বাড়িটিতে যদি এমন কোন নির্দশন মিলে তাহলে আমরা এটিকে সার্ভে ও লিস্ট করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করব।