বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে হতে হবে ডেমোক্রেটিক এবং লিবারেল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.06.2020

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী।।

বিষয়টা করোনা নিয়ে। কেউ ভেবে বসবেননা এটা রাজনৈতিক কিছু। এই করোনা কালে আমরা যে জীবন কে যাপন করছি তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে আমাদের বোধ, অভ্যাস ও ব্যবহারকে।
আমাকে প্রায় একটি প্রশ্ন শুনতে হয়- আর কত দিন? কিভাবে মুক্তি মিলবে এই করোনা থেকে। জবাবে আমি বেশ ডিপ্লোমেসির আশ্রয় নেই। কারণ সরাসরি সত্যটা কেউ শুনতে চায় না। শুনলেও বুঝতে চায় না। আর বুঝলে মানতে চায় না। তাই সব শেষে জাতি হিসেবে আমরা এই- সেই বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায়ও নেই।
কিন্তু আসলেই কি কিছু করার নেই? কিছুই নেই?
উত্তর হলো আছে। এবং ইতিমধ্যে এই সমাধান সবারই জানা। আর সেই সমাধান বাস্তবায়নের জন্য চাই গণতান্ত্রিক চর্চাবোধ।
চাই সহজতর পন্থা। চাই সব সহজ সমাধানের সঠিক বাস্তবায়ন।
তাই এই সংক্রমন প্রতিরোধ হতে হবে ডেমোক্রেটিক এবং লিবারেল।
সংক্রমণ প্রতিরোধে একটি উত্তম পন্থা হলো কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন যার একটি কঠোর প্রয়োগ হলো লক ডাউন। যদি খুব দ্রুত আমরা সংকট উত্তরন চাই তাহলে এই কঠোর নিয়মের পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা দরকার।
কিন্তু এখানে চ্যালেন্জ হলো কত দিন আর এভাবে? জনগণ আর কতই বা সহ্য করবে?
বলা যায়, লকডাউন , আইসোলেসশন পন্থাটি সঠিক এবং কার্যকারী হলেও এটা গণতান্ত্রিক হচ্ছে না। এটা কয়েকজন সচেতন মানুষ ছাড়া কেউ মানতে চাচ্ছে না। তাই আমাদের ভাবতে হবে লিবারেল বা সহজতর কিছু।
আর এখানেই এসে যাচ্ছে, জনস্বাস্থের সবচেয়ে বেসিক বা প্রাথমিক বিষয় “হাইজিন প্র্যাকটিস “। এখন যখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বিস্তৃত আকারে ঘটছে সেখানে এই প্রাথমিক ব্যবস্থাপনায় জোড় দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। আর তা হলো – মুখে মাস্ক পড়তে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। এখন আর এর বিকল্প নেই।
কিন্তু এসব কথা তো আমাদের আগে থেকেই জানা, নতুন তো কিছু নাই। না, নতুন পুরোনো বিষয় না এটা। এটাই হলো বেসিক। ক্লাস ওয়ন টু তে না পড়ে তো এস এস সি পাশ হয়না। তেমনই এই অভ্যাস গড়ে না উঠলে, এই নিয়ম সবাই না মনলে অধিকতর কার্যকারী ব্যবস্থাও আশার আলো দেখাতে পারবে না।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটান, কিংবা ভিয়েতনাম থাইল্যান্ড এখন করোনা কে প্রায় কন্ট্রোল করে নিয়েছে। তার অন্যতম কারণ তাদের জনগণ সরকারের আদেশকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তাই তারা প্রায় সবাই মাস্ক পড়ে। তারা পরিচ্ছন্ন থাকে এবং রাখে। তারা নিজেরাই স্বপ্রণদিত হয়ে আইসোলেশন বাস্তবায়ন করে। তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে মাস্ক পড়া। তাই বিষয়টি হয়ে গেছে গণতান্ত্রিক। অর্থাৎ জনগণই বলবে – আমরা এই নিয়ম মানতে চাই। তখন এই ডেমোক্রেটিক চিন্তা হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় সামাজিক আইন।
আর তখন সরকার একটি লিবারেল পন্থা বেছে নিবেন। যেমন ধরাযায় কোন লকডাউন নয় বরং সবার জন্য বাধ্যতা মূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিৎ করণ। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না, কেউ অফিস করতে পারবে না, কোন দোকান খুলবে না, কোন গাড়ি, রিক্সা চলবে না। যে মানবে না তার জন্য প্রযোজ্য হবে আইন, মোবাইল কোর্ট। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

যদি এই প্রাথমিক কাজটি আমরা জোড়ালো ভাবে করতে পারি, মাস খানেকের মধ্যেই সংক্রমন ৭০ ভাগ কমে আসবে। মনে রাখতে হবে, করোনা যত দ্রুত বিস্তার করে তত দ্রুতই তাকে প্রতিহত করা সম্ভব যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করা হয়।

যত দিন আমরা সেই বোধ জাগরিত করতে পারবো না, তত দিন এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে এই রোগ শুরু হয়েছিল কোন না কোন একজনের মাধ্যমেই। সেই একজন যে কেউ হতে পারে। তাই একজন করোনা রোগী থাকা মানেই এই সমাজ অনিরাপদ।
তাই আমাদের নিতে হবে জনসম্পৃক্ত মূলক একটি সহজতর পন্থা যা মাঠে ঘাটে সব ক্ষেত্রে একসাথে প্রচলিত হবে। এভাবেই হয়তো এ সংংকট আমরা মোকাবেলা করতে পারবো।
বি.দ্র. ভ্যাকসিন সহসাই আসছে না। তাই সে আশায় না থেকে সচেতন হোন, নিয়ম মেনে চলুন। একই সাথে সরকারও যেন নিয়ম আইন অমান্যকারীদের কঠোর ভাবে বিচার করার ব্যবস্থা গ্রহন করে।
লেখক : মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লা বিতর্ক পরিষদ । মোবাইল :০১৭১৬-২১২৬৯২