শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০


সরাইলের অরুয়াইল বাজার, নদীর তীর দখলের হিড়িক !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.06.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ঐতিহ্যবাহী তিতাস ও মেঘনা নদীকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অরুয়াইল বাজার।এই সরকারের আমলে বিশাল হাওর সম্পৃক্ত ভাঁটি অঞ্চলের সরাইল-অরুয়াইল আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ হওয়ার পর বিশেষ করে অরুয়াইল ও পাকশিমুল এই দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের রাস্তাঘাটসহ জীবন যাএার মান দিনে দিনে প্রসার ঘটায় বাজারের দোকানপাটসহ ব্যবসা ব্যাণিজের পরিধি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে অরুয়াইল বাজার এলাকায় জায়গা-জমির মূল্য বহুগুণে বেড়ে যায়। এই সুযোগে একটি শক্তিশালী ‘ভূমি খেকো’ সিন্ডিকেট সরকারি জায়গা অবৈধ দখলের পর সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে মোটা অংকের হাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এই অবৈধ দখলে ভূমি সিন্ডিকেট সদস্যদের সহযোগিতা করেছে এখানকার বিভিন্ন সময়ে কর্মরত অসাধু ভূমি অফিসাররা। এতে তারাও লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে গেছেন এই সরকারি জায়গা অবৈধ দখলের সুযোগ করে দিয়ে। তবে অরুয়াইল এলাকার সংঘবদ্ধ ভূমি সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত করছেনা। এদিকে সেখানকার অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযানে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও অদৃশ্য কারনে পরে তা নীরব হয়ে যায়।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অরুয়াইল বাজার এলাকায় অবৈধ দখলদাররা এতোটাই শক্তি নিয়ে চলেন যে, অতীতে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা সেখানকার সরকারি জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে উল্টো দখলদারের দায়ের করা মামলায় তাঁরা হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে এসব নানাবিধ ঝামেলার কারনে অরুয়াইলের অবৈধ দখল নিয়ে তেমন জোরালো ভূমিকা নেয়নি। এই সুযোগে দখলদাররা একের পর এক মামলার জাল বিছিয়ে অরুয়াইল বাজারের আশপাশের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে মার্কেট নির্মাণ করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, অরুয়াইল বাজার এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনেই সরকারি জমি একের পর এক দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা। অবৈধ দখলের পর প্রভাবশালীরা এসব সরকারি জমিতে স্থায়ী ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেছেন।
অরুয়াইল বাজার এলাকায় প্রায় আট থেকে নয় শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বহু আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে। আরও নতুন নতুন স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। এ বাজারের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে তিতাস নদী। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থাপনা নির্মাণে একটু একটু করে এখন দখল করছে নদীর তীর।এতে করে নদীর হারাচ্ছে তার প্রকৃত গতি। নদীর বুক দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অরুয়াইল বাজার এলাকায় গেলে বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, অবৈধ দখলদাররা বাজারের আশপাশের সরকারি জায়গা কৌশল খাঁটিয়ে দখলের পর এখন তারা তিতাস নদীর জায়গা দখলে নিচ্ছে একটু একটু করে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এখানকার সরকারি জায়গা দখলদার প্রত্যেকেই প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা জানান, নদীর পাড়ে দখলদাররা কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দোকান নির্মাণ করছে। কখনো যদি এখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তাহলে নদী থেকে পানি আনার ব্যবস্থাটুকুও তারা রাখছে না। নদীর পাড়ে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘাটলা পর্যন্ত বালু ফেলে প্রভাবশালীরা দখল করেছে। ফলে নদীর পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সের একজন ব্যক্তি জানান, অরুয়াইল বাজারের সামনে যা দেখছেন, সবই সরকারি জায়গা। কিন্তু এখন দখলদারা বলছে তাদের মালিকানা জায়গা।
এই বৃদ্ধ কৃষক বলেন, ‘কি আর কমু, অরুয়াইল বাজারের জনগণের দুটি পায়খানা (টয়লেট) পর্যন্ত রক্ষা পায়নি সেই দখলদারত্বের হাত থেকে।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান ও অরুয়াইল বাজার কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এখানে অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, যারা অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অরুয়াইল বাজারের আশপাশের মূল্যবান সরকারি জায়গা অনেকেই দখল করেছেন।
জানতে চাইলে সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা বলেন, সরকারি সম্পত্তি যারা দখল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নেওয়া হবে। কোনোভাবেই সরকারি জায়গা দখল করে রাখতে পারবে না। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় কাজ অব্যাহত রেখেছি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মোসা বলেন, অরুয়াইল বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। আজ হোক, কাল হোক, কাউকে সরকারি জমি দখল করতে দেওয়া হবে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।