বুধবার ৮ জুলাই ২০২০


রামচাঁদ গোয়ালার আরেক নাম ছিল ইকোনমি বোলার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.06.2020

আবুল হাসানাত বাবুল।।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রামচাঁদ গোয়ালার নাম অবিস্মরণীয়। তিনিই প্রথম বাঙ্গালী বাঁহাতি স্পিনার যিনি ক্রিকেটে সফল হয়েছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন। ময়মনসিংহের নিজ বাড়িতেই ১৯ জুন তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চিরতরে চলে যান। ঢাকায় তিনি পাকিস্তান আমলে ষাট দশকেই ক্রিকেটারের পরিচিতি পান। খেলেন মোহামেডান, টাউন ক্লাব, শান্তিনগর ক্লাবে। বেশি খেলেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের হয়ে। কারদার সামার ক্রিকেট এবং ঢাকা প্রথম বিভাগ লীগে তিনি অপরিহার্য ক্রিকেটার ছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার প্রথম দশকে অনিয়মিত হলেও আশি দশকে তিনি নিয়মিত হয়ে গেলেন আবাহনী ক্রীড়াচক্রে। ঠিক এই সময়ে তিনি কুমিল্লায় প্রায়ই আসতেন। তখন নিয়মিত আসতেন রকিবুল হাসান, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ, নাদির শাহ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুসহ আরো অনেকে। রামচাঁদ গোয়ালা লীগ খেলতেন ইগলেটস, ব্রাদার্স ইউনিয়ন কিংবা ওয়াপদা এসির হয়ে। মোহামেডানেও তিনি খেলেছেন। ঠিক এইসময়ে আমি ছিলাম ক্রিকেট আম্পায়ার। কুমিল্লা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে আমি দুই দশক ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কুমিল্লা ক্রিকেট আম্পায়ার সমিতি গড়ে তুলি। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি বহুবছর। সেই সময় কামরুজ্জামান চৌধুরী পরে ইউসুফ জামিল বাবু জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বাদল হাজরা যুগ্ম সম্পাদক, বদরুল হুদা জেনু ক্রিকেট সম্পাদক ছিলেন। ক্রিকেট আম্পায়ার সমিতির জন্য তাদের বিশেষ সহযোগিতা ছিল। মাঠের তখন জাঁদরেল ক্রিকেট সংগঠক ইসমাইল খান, রাশিদুল হাসান খান, ডিকে পাল ভুতু, শেখ গিয়াসউদ্দিন বাবুল, শাহাবউদ্দিন আহমেদ মানিক, দুই শফিকুর রহমান, বিজন রায়, তাপস বাউল এবং নাজিম উদ্দিন আহমেদ খসরু। ঠিক তখনই এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার আম্পায়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়। এক্ষেত্রে ইলেভেন স্টার ক্লাবের আয়োজনে শহীদ স্মৃতি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা উৎসাহ সৃষ্টি করে।
যাই হোক আমার বিষয় রামচাঁদ গোয়ালা। আমি এবং খসরু ভাই সেদিন মাঠে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। রামচাঁদ গোয়ালা সম্ভবত ওয়াপদার হয়ে খেলছিলেন। স্ট্যাম্পের সামনে এসে বাম হাত ঘুরাতেন। পদক্ষেপ ছিল মাত্র সাত কি আটটি। ঘূর্ণি বল। দারুণ লাইন এবং লেন্থ। সেদিনের খেলায় গোয়ালা নিয়েছিলেন পাঁচটি উইকেট। ব্যাটসম্যানকে বোকা বানাতে ছিলেন উস্তাদ। একটু অসতর্ক হলেই স্ট্যাম্পড নয়তো ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ। নিশ্চিত ব্যাটে বলে না হলে মাঝমাঠে ফিল্ডারদের কাছে ক্যাচ। যার জন্য বুদ্ধিমান ব্যাটসম্যানরা সিঙ্গেল নিতেন। বড়জোর দুই। যার জন্য রামচাঁদ গোয়ালার আরেক নাম ছিল ইকোনমি বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছিলেন তবে সেগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ছিল না। কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ দলের সঙ্গে এবং শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে তিনদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি যখন ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তখন তার বয়স ৫৩। বাংলাদেশের আর কেউ এত বছর ধরে ক্রিকেট খেলেননি। স্পিনার হওয়াতেই অনেকদিন খেলতে পেরেছিলেন। ক্রিকেট রীতি অনুযায়ী মাঠে আম্পায়ারদের স্যার ডাকতেন। তিনি ছিলেন অনেক সিনিয়র। বলেছিলাম আপনি স্যার না ডাকলেও পারেন। কানে বাজে কথাটা- ব্যক্তি আপনি নন, মাঠে প্রধান বিচারক আম্পায়ার। তাকেই স্যার ডেকেছি। খেলা ছাড়ার পর ক্রিকেট কোচিংকে পেশা হিসেবে নেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তার ছাত্র। আশি বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণেই চলে গেছেন। ছিলেন চিরকুমার। ভ্রাতুষ্পুত্র, ভ্রাতৃকন্যাদের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন। এই গুণী খেলোয়াড়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
লেখক : কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক অভিবাদন সম্পাদক। মোবাইল :০১৭১৪-৯৮৬৭২১