শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর ২০২০


ট্রেনে নেই নিয়ম-নীতি-শৃঙ্খলা, মানছে না স্বাস্থ্য বিধি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.06.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছে না ট্রেনের যাত্রীরা। অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় ও সঠিক তদারকি না থাকায় ট্রেনে ইচ্ছেমতো যাত্রী উঠছে আর নামছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ট্রেনের বিজোড় আসনগুলোতে অর্থাৎ প্রতি দুই আসনের বিপরীতে একজন যাত্রী বসার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনের সবগুলো আসনে যাত্রী বসছে। নির্দিষ্ট আসনের বাইরে টিকিট বিক্রি সম্ভব না হলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পার হতে দেখা গেছে। রবিবার বিকেলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে দেখা যায় এমন চিত্র। ট্রেনের ভিতরে বেশিরভাগ যাত্রীকে কোনো ধরনের -এরপর ৩ এর পাতায়
স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। পঞ্চাশ শতাংশের বেশি যাত্রীর মুখে ছিল না মাস্ক। অনেক ক্ষেত্রে এক যাত্রীর কোলের ওপরে আরেক যাত্রীকে বসতে দেখা গেছে। ট্রেনের বিক্রিকৃত নির্দিষ্ট আসনে যাত্রী বসার পরও প্রায় সবগুলো আসন পূর্ণ ছিল। ট্রেনের দরজা ও মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল বেশকিছু যাত্রী। ট্রেনে খাবার বিক্রির কোনো বিধান না থাকলেও প্রচুর হকারকে ট্রেনে উঠে খাবার বিক্রি করতে দেখা গেছে। ট্রেনে হিজড়াদের চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট কাটলেও প্রতি দুই আসনের বিপরীতে একজন বসার বিধান তাদের জানা নেই। সে সুযোগে টিকিট ছাড়া উঠে যাওয়া যাত্রীরা আসন ফাঁকা পেয়ে বসে গেলে কারও কিছু বলার সুযোগ থাকে না। স্টেশনগুলোতে টিকিট বিক্রি না হলেও তদারকি না থাকায় বিনা টিকিটে যাত্রীরা রেলে ভ্রমণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের দায়িত্বরতরা টিটিই ও স্টাফরা যাত্রীদের থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীদের বসার সুযোগ করে দেন।
কুমিল্লা রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। অনিয়ম রোধ করার মতো যে ধরনের লোকবল দরকার, ঘাটতি থাকায় যাত্রীদের নিয়ম মানানো কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, এ ধরনের ঘটনা তদারকির জন্য স্পট টিম রয়েছে। লোকাল স্টেশনগুলোতে অনেকে উঠে পড়ে। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এসব মনিটরিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচজন টিকিট কাটলে তার সাথে আরও পাঁচজন আত্মীয় উঠে পড়ে। আবার ফ্যামিলি মেম্বাররা আলাদা বসতে চান না। অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।