বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০


কুমিল্লায় শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের মানববন্ধন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.07.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অবশিষ্ট সকল পরীক্ষা থেকে অব্যাহিত দিয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার কুমিল্লা নগরীতে মানববন্ধন করেন শিক্ষানবীশ আইনজীবীরা।
এতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্তির প্রিলি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের কুমিল্লার সিনিয়র সমন্বয়কারী উত্তম তারণ বলেন- আমরা ১০ বৎসর, কেউবা ৫ বৎসর পূর্বে দেশের বা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বার কাউন্সিলের নিবন্ধন পেতে বিলম্ব হওয়ায় আমরা একটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বারে সিনিয়র আইনজীবীগণের সাহচর্যে থেকে অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আইন পেশায় সেবা প্রদান করে আসছি। বিশ্ব মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা শিক্ষানবীশগণ অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিবন্ধন না থাকায় আমরা সকল প্রকার আর্থিক, মানবিক ও আইনগত অধিকার হতে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ইতিহাসে দেখা যায় ২০১২ সালের পূর্বে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে বৎসরে দুইবার অর্থাৎ ৬ মাস পর পর নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ করা হতো এবং কখনো কখনো শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই পূর্বক আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হতো। বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে একটি পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ করতে ২/৩ বৎসর চলে যায়। আবার প্রতি ৩ বছর বা ৪ বছর পর হারিয়ে যায়। তাই আমরা যারা এই দীর্ঘ সময় তালিকাভুক্ত আইনজীবী হতে পারিনি। তারা এক অসহনীয় দুর্দশাগ্রস্থ জীবন যাপন করছি। আমরা না পারছি আইন পেশায় থেকে সরে যেতে না পারছি অন্য কোন পেশায় নিজেদের মানিয়ে নিতে। আমরা যারা আইনকে পেশা হিসাবে জীবনের ব্রত নিয়ে গ্রহণ করছি তাদের জন্য আইনজীবী হিসাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিবন্ধন না থাকা একদিকে যেমন পেশা চালানো অমর্যাদাকর ঠিক তেমনি রাষ্ট্রীয়ভাবেও আইনে স্বীকৃত নয়। তাই এমতপরিস্থিতিতে আমরা যারা কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে কেউ ২০১৭ সালে আবার কেউবা ২০২০ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তালিকাভুক্তির এম.সি.কিউ পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাত্র ১৩% পাস করেছি, যাহার লিখিত পরীক্ষা গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী গত মার্চ/এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ব মহামারীর এই চলমান সংকটের কারণে আমাদের লিখিত পরীক্ষা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে গ্রহণ করতে পারে নাই। এই পরিস্থিতিতে হয়তো দেখা যাবে যতদিন এই করোনা নামক মহামারী চলতে থাকবে, ততদিন আমাদের পরীক্ষা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবেন না। আবার কোন ক্রমে লিখিত পরীক্ষায় বসাতে পারলে খাতা দেখার নামে এবং চুড়ান্ত তালিকাভুক্তির ফলাফল দিতে ২/৩ বৎসর সময় অপেক্ষা করতে হবে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত যাত্রায়। যেখানে আমাদের তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশ নিতেই কেবল অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০১৫ থেকে ২০১৭ আবার ২০১৭ সালের পর ২০২০ সাল পর্যন্ত। যারা আইনজীবী হওয়ার মানসে আইন পরীক্ষায় পাশ করে দীর্ঘকাল ধরে বেকারত্বের অভিশাপে ধুকছে, মানবেতর জীবন যাপন করছে, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছে তবুও তারা চাকুরী চাচ্ছে না। শুধু আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়ে নিজেদের পেশায় মর্যাদার সাথে আত্মনিয়োগ করতে চাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এমতপরিস্থিতিতে আমাদেরকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে কিংবা আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য পরীক্ষার নামে জীবন থেকে আর মূল্যবান সময় কেড়ে না নিয়ে মানবিক বিবেচনায় অবশিষ্ট সকল পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হিসাবে নিবন্ধন ভুক্ত করিতে এবং আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গেজেট প্রকাশের দাবি করছি।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্তির প্রিলি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের কুমিল্লার সমন্বয়ক মোঃ গোলাম মহিউদ্দিন বলেন- আমরা সমগ্র বাংলাদেশের প্রিলি (এম.সি.কিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আইন শিক্ষাবীশগণ আমাদের যৌক্তিক দাবীটি প্রতি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে জানানোর জন্য গত ০৯ জুন ২০২০ তারিখে দেশের প্রায় ৬৪টি জেলা থেকেই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারক লিপি প্রদান করি। কিন্তু অদ্যাবদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আমরা হতাশাগ্রস্থত হয়ে পড়ি। তাই আমরা আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট মানবিক হস্তক্ষেপের আশায় আজ দেশ ব্যাপী মানবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।