বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০


শূন্য থেকে শীর্ষে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.07.2020

আহসানুল কবীর।।

একে একে নিভছে দেউটি।
দ্যুতিহীন মানুষের প্রবল দাপট এখন সমাজের সর্বস্তরে। দ্যুতিময় মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।এ মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হলেন বরেণ্য সমাজ সেবক নন্দিত শিল্পপতি লতিফুর রহমান।বুধবার দুপুরে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন অনন্ত অসীমের পানে(ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।

কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথে ৪০ কিলোমিটার পার হলে কলকাকলিতে মুখরিত সবুজে ছাওয়া গ্রাম চিওরা।সেখানে পাশাপাশি দুটি বাড়ী কাজী বাড়ী আর হাজী বাড়ী। নাম আলাদা হলেও বাড়ীগুলোর আদি উৎস একই। ফটিকছড়ি ভূজপুর কাজী বাড়ীর কাজী শাহাবুদ্দিনের বংশের দুই ভাই চিওড়া আসেন। তাদের এক ভাই এর নামে কাজী বাড়ী আরেক ভাই এর নামে হাজী বাড়ী। হাজী বাড়ীতে জন্ম নেন ওয়ালিউর রহমান। আর এই ওয়ালিউর রহমান হচ্ছেন লতিফুর রহমানের দাদা।
লেখাপড়ার জন্য অল্প বয়সে ওয়ালিউর রহমানকে পাঠিয়ে দেওয়া হল জলপাইগুড়ি তার মামার বাড়ীতে। সেখানেই তার বেড়ে উঠা। সেখানেই প্রথম চা ব্যবসা দিয়ে তার শুরু। বৃটিশদের বাইরে এদেশীয়দের মাঝে তিনিই প্রথম চাবাগানের মালিক।এসময় তিনি কাজী বাড়ীর মোশাররফ হোসেনের সাথে আসামের প্রসিদ্ধ চা ব্যবসায়ী রহিম বক্স এর মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন।বিয়ের দিন রহিম বক্স জামাতাকে একটি চা বাগান উপহার দেন।সেই একটি থেকে মোশাররফ হোসেন ২২ টি চা বাগানের মালিক হন এবং পরবর্তীতে নবাব উপাধি পান। তিনি ডব্লিও রহমান নামেই বেশী পরিচিত। ডব্লিও রহমান চাঁদপুর রুপসা চৌধুরী বাড়ীতে বিয়ে করেন।পরবর্তীতে তিনি চাঁদপুরে ডব্লিও রহমান জুট মিল প্রতিষ্ঠা করেন।সেখানেই লতিফুর রহমানের কর্মজীবনের শুরু।সরকার পরে ডব্লিও রহমানকে খান বাহাদুর উপাধি প্রদান করে।লতিফুর রহমান এবং তাঁর বাবা খান বাহাদুর মজিবুর রহমান দুজনেই জলপাইগুড়িতে জন্ম গ্রহন করেন।
লতিফুর রহমান পারিবারিক ভাবে শামীম নামেই পরিচিত। তার শৈশব কৈশোর আর যুবা সময় কেটেছে সম্পদের পাহাড়ের মাঝে।হঠাৎ এক রাতে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেলেন। ১৯৭৪ সনে সরকারের জাতীয়করণ নীতির কারনে তাদের সমুদয় ব্যবসা সরকারের হয়ে গেল।পর্বতচুড়া থেকে ধুলায় নেমে আসলেন।শুন্য থেকে আবার শুরু।আমদানী রফতানী ব্যবসায় হাত দিলেন।কিন্তু পুঁজি পাবেন কই? এগিয়ে আসলো উত্তরা ব্যাংক।বিনা জামানতে শুন্য মার্জিনে ব্যাংক এর এমডি তাঁকে৫০ লক্ষ টাকা লোন দিলেন।তারপরের ইতিহাস কমবেশী সবাই জানেন।ভিনি ভিডি ভিসি।এলেন দেখলেন জয় করলেন।ট্রান্সকম পেপসি ফিলিপস কেএফসি পিৎজা হাটস প্রথম আলো ডেইলি স্টার নেসলে এসকেএফ গার্ণিয়ার লরিয়েল কোনটা রেখে কোনটা বলি!
প্রথম আলো সংবাদপত্র জগতে বিপ্লব এনেছে।প্রথম আলো ই প্রথম দেখিয়েছে বেতন দিয়েই সংবাদকর্মীর সংসার চালানো সম্ভব।প্রথম আলো বন্ধুসভার মাধ্যমে ত্রান বিতরন সহ নানাবিধ সামাজিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটিয়েছেন।গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে বাচ্চাদের গণিত মনস্ক করেছেন।এসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছেন।দান করতেন নিরবে। কি না করেছেন তিনি?কিন্তু কখনো পাদপ্রদীপের আলোয় আসার চেষ্টা করেননি।পত্রিকাকে ব্যাবসার হাতিয়ার বানাননি। বরং সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করেছেন। কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের এই কীর্তিমান পুরুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক : সাংস্কৃতিক সংগঠক,লেখক ও গবেষক। মোবাইল :০১৭১১-৩৯৩৮৫৭