বুধবার ১২ অগাস্ট ২০২০


টি স্টল এবং বেকারের আত্মমর্যাদা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.07.2020

তারিক চয়ন।।
সেদিন চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি। এক পর্যায়ে সুদর্শন-স্মার্ট, দেখতে ভদ্র ঘরের সন্তান- জনৈক যুবক এসে পাশের এক অচেনা ভদ্রলোকের কাছে সিগারেট চাইলো। ভদ্রলোক অনিচ্ছাসত্ত্বেও চক্ষুলজ্জার ভয়ে তাকে সিগারেট কিনে দিলেন। সিগারেট টানা শেষেই যুবকটি আমাকে বললো চা খাওয়াতে।

-কেন আপনাকে চা খাওয়াবো?
-আমি বেকার তাই।
-একটা গল্প শোনবেন?
-নিশ্চয়ই, যুবকের উত্তর।
শুনুন, বলে আমি গল্প শুরু করলাম- আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা যখন আমি বেকার হলেও অচেনা মানুষের কাথে ফাও চা চাইতাম না। একদিন ভোরে দেশের এক সুপরিচিত রাজনীতিবিদ এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসীর বাড়িতে গেলাম তার ভাতিজার সাথে, তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানতে। আমরা মোট চার জন।
সন্ত্রাসী সাহেব মর্নিং ওয়ার্ক সেড়ে বাড়িতে ঢুকে সোজা ডাইনিং টেবিলে। আমরাও তাকে ফলো করে চেয়ারে বসলাম, সেই টেবিলেই। তিনি কারো দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ না করে টেবিলে সাজানো নানান মুখরোচক খাবার তুলে একে একে খেতে থাকলেন। বলাবাহুল্য আমরা কেউই সেখানে নাশতা করে যাইনি। তার খাওয়া দেখে খিদে আরো বেড়ে গেলো। সেটা বুঝতে পেরে তার ভাতিজা স্বভাবসুলভ হাসতে হাসতে বললোঃ
-চাচা, কিছু মনে করবেন না। একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
-বল্।
-আমরা এতগুলো মানুষ যে আপনার সামনে ক্ষুধার্ত বসে আছি, আর আপনি নিজে একা খেয়ে চলেছেন, লজ্জা লাগছে না?
-লজ্জা লাগবে কেন! আমারটা আমি জুটিয়ে খাচ্ছি। তোদেরটাও তোরা জুটিয়ে খা।
গল্প শেষ করে চা খেতে চাওয়া যুবকটিকে ধন্যবাদ দিয়ে বললাম, আপনার কারণে আজ বহুদিন পর ঘটনাটি মনে পড়লো।
পুনশ্চঃ নিজেকে অনেক চেষ্টা করেও সংবরণ করতে না পেরে যুবকটিকে ঠিকই চা খাওয়ালাম এবং কারো থেকে ফাও খেয়ে যে অন্তত ‘ধন্যবাদ’টুকু দিতে হয়, সেই শিষ্টাচারও শেখালাম। তাছাড়া বেকার জীবন যে আত্মমর্যাদা চর্চার উত্তম সময় তাও বাতলে দিলাম।
লখেক: সাংবাদিক