সোমবার ৩ অগাস্ট ২০২০


নগরীর ১০নং ওয়ার্ডে অবনতি,১২ ও ১৩তে উন্নতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.07.2020

মাহফুজ নান্টু ।।

করোনা সংক্রমণ রোধে নগর কুমিল্লায় চারটি ওয়ার্ডে লকডাউন করা হয়। গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া লকডাউন শেষ হয় শুক্রবার রাত ৯ টায়। এখন থেকে আগামী সাত দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি অবস্থার অবনতি হয় তাহলে আগামী বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন লকডাউনের ঘোষণা হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে সভার সূত্র জানায়, লকডাউনের আগের ১৪ দিনে ৩ নং ওয়ার্ডে আক্রান্ত ছিলো ২৬ জন। ১৪ দিন পরে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ জনই। নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে লকডাউনের আগের ১৪ দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৭ জন। লকডাউনের ১৪ দিন পরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩০ এ পৌঁছায়। ১২ নং ওয়ার্ডে পূর্বের আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৪ জন। পরের ১৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। এছাড়াও ১৩ নং ওয়ার্ডে লকডাউনের আগে আক্রান্ত ছিলো ১৫ জন। লকডাউনের ১৪ দিনে আক্রান্ত হয়েছে নয়জন।

সভায় উপস্থিত কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, নগরীর ৩, ১০,১২ও ১৩ নং ওয়ার্ডের লকডাউন শেষে আমরা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আগামী সাত দিন নগরীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এমপি বাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,লকডাউনে নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে লকডাউনের সময় করোনা আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ বেড়েছে। বিষয়টি আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।
সভায় উপস্থিত কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃআতিক উল্লাহ খোকনের উদ্দেশ্য বলেন, নগরীর দোকানপাট যেন সন্ধ্যা ৭ টার পর খোলা না থাকে। এ বিষয়ে দোকান মালিকদের অবহিত করার আহবান জানান এমপি বাহার। যদি এর ব্যতয় ঘটে তাহলে আইন অনুযায়ী দায়ী দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসনকে আহবান করেন ভ্যানে করে শুধু খাবার সামগ্রী বিক্রয় করা ছাড়া অন্য কোন কিছু যেন ফেরি করা না হয়।

সভায় পুলিশ সুপার মোঃ সৈয়দ নুরুল ইসলাম লকডাউন করা ৪ টি ওয়ার্ডের তুলনামূলক রোগীর পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে লকডাউনের আগের ১৪ দিনে ৩ নং ওয়ার্ডে আক্রান্ত ছিলো ২৬ জন। লকডাউনের ১৪ দিন পরে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ জনই। নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে লকডাউনের আগের ১৪ দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৭ জন। লকডাউনের ১৪ দিন পরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩০ এ পৌঁছায়। নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডে পূর্বের ১৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৪ জন। লকডাউনের পরের ১৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। এছাড়াও ১৩ নং ওয়ার্ডে লকডাউনের আগের ১৪ দিনে আক্রান্ত ছিলো ১৫ জন। লকডাউনের ১৪ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৯ জন।

সভায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর জানান, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চলবে। এই সময় জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি মনিটরিং করবে। অবস্থা বুঝে আগামী বৃহস্পতিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় উপস্থিত থেকে রোগীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেন সিভিল সার্জন মোঃ নিয়াতুজ্জামান ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ নিসর্গ মেরাজ। এ সময় নগরীর লকডাউন করা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।