শনিবার ১৫ অগাস্ট ২০২০


ডা: ওয়ালীউল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্ধকল্যাণ সমিতি ও ডায়াবেটিক সমিতির ইতিহাস সম্পূর্ণ হবে না


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.07.2020

আবুল হাসানাত বাবুল।।
পহেলা জুলাই ডা: এম ওয়ালীউল্লাহ নাঙ্গলকোটের আশারকোটা গ্রামে পিতা-মাতার কবরের পাশে পারিবারিক গোর¯’ানে সমাহিত হন। জীবন কাটিয়েছেন শহর কুমিল্লায়। ফয়জুন্নেসা স্কুলের পাশে ডাক্তারপাড়ায় ছিল পাশাপাশি তিনটি বাসা। দক্ষিণে ছিল নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী-রাবেয়া চৌধুরীর একতলা বাসা। মাঝে আবদুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের অত্যন্ত সুন্দর তিনতলা বাসা। তার পাশেই উত্তরে ডা: ওয়ালীউল্লাহ- ডা: যোবায়দা হান্নানের বাসগৃহ। রাবেয়া চৌধুরী, আবদুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার রাজনীতিবিদ। সবসময়ই লোকসমাগম ছিল কিš‘ বেশি ছিল ডা: এম ওয়ালীউল্লাহ ও ডা: যোবায়দা হান্নানের ক্লিনিকে। ডা: ওয়ালীউল্লাহ চক্ষু বিশেষজ্ঞ আর ডা: যোবায়দা হান্নান গাইনী। ১৯৮৮ সালের জানুয়ারীর প্রথম দিকে ব্যাডমিন্টনের ফ্লাওয়ার ডান চোখে বিদ্ধ হওয়ায় আমি ডা: ওয়ালীউল্লাহর চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলাম। সেই সময়কালে সংবাদকর্মে ও সমাজকর্মে তৎপর ছিলাম বলে তাদের দুজনের কাছেই পরিচিত ছিলাম। ডা: ওয়ালীউল্লাহ আমার চোখের চিকিৎসা করেন। আমার জ্যেষ্ঠ সন্তান সরোজ ও একমাত্র কন্যা সময় দুজনই ডা: যোবায়দা হান্নানের হাতে ভূমিষ্ঠ হন। দেশ স্বাধীন হবার পর তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই ইংল্যান্ডে যান এবং উ”চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে এসে চিকিৎসায় ও সমাজসেবায় নিবেদিত হয়ে যান। তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজের সহধর্মিণী যোবায়দা হান্নানকে বেশি উৎসাহিত করেন। ১৯৭৯ সালের কথা। যোবায়দা আপা টেলিফোনে তার বাসায় যেতে বলেন। সন্ধ্যায় তার বাসায় অনেককে দেখলাম। সবাই পরিচিত। বিএনএসবি কুমিল্লা শাখা হবে। সংগঠনটি চট্টগ্রামভিত্তিক। ডা: রবিউল হোসেন তার প্রধান। ডা: ওয়ালীউল্লাহ সভাপতি, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, আব্দুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার, আব্দুল মোত্তালিব, রাবেয়া চৌধুরী, আব্দুল আজিজ খান সহ-সভাপতি। ডা: যোবায়দা হান্নান সাধারণ সম্পাদক। আমরা কয়েকজন সদস্য। সেসময় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শীতকালে চক্ষুশিবির করা হতো। এই ক্যাম্পগুলোর অন্যতম কর্মী ফরিদ সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ। যারা পরে সংগঠনেরও দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চক্ষুবিশেষজ্ঞগণ আসেন। কুমিল্লার একমাত্র ভরসা ডা: এম ওয়ালী উল্লাহ। যোবায়দা হান্নান পরে জাতীয়ভাবে কাজ করার ই”ছা প্রকাশ করলে বিএনএসবির ¯’লে গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি। তখনকার জেলা প্রশাসক আবদুস সালামকে সভাপতি করা হয়েছিল কিš‘ সমাজকল্যাণ অধিদফতরের নিবন্ধন করাকালীন আপত্তি দেয়া হয় যে পদাধিকার বলে কেউ স্বে”ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি থাকতে পারবেন না। তখন ওয়ালী উল্লাহকে আবারো সভাপতি করা হয়। যোবায়দা হান্নান নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনকে এতো দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন যার জন্য ওয়ালী উল্লাহ চলে যান অন্তরালে। তারপরেও ঐতিহাসিক তথ্য হ”েছ ডা: এম ওয়ালী উল্লাহ ছিলেন অন্ধকল্যাণ সমিতির প্রথম সভাপতি। এই ধারাবাহিকতায় নাসির চৌধুরী, এডভোকেট আবদুল মোত্তালিব সংগঠনের সভাপতি হয়েছিলেন। সূচনা থেকে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন ডা: আবদুস সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন এড. তাইফুর আলম। বাঁশরী দত্ত, নিহার মজুমদার, প্রদীপ কুমার রাহা কান্তি, প্রদীপ কুমার পাল বাবলু, পাপড়ী বসু, ফাহমিদা জেবিনসহ আরো অনেকে তখন সক্রিয়। এতো বেশি নাম, যা এখানে প্রকাশ করতে গেলে ওয়ালী উল্লাহ আবারো অন্তরালে চলে যাবেন। অন্ধকল্যাণ সমিতির নামেই সরকারী সহযোগিতায় ডা: যোবায়দা হান্নান চক্ষু হাসপাতাল ¯’াপন করতে সক্ষম হন।গোড়ার দিকে অডিট করার দায়িত্ব পালন করেন দীপক ভদ্র। সেই সময়কালে তপন সেনগুপ্ত যোবায়দা হান্নানের সঙ্গে থাকতেন, ঢাকায় দৌড়ঝাপ করতেন। আমি বহুবার এই সংগঠনের নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৯ সাল অন্ধকল্যাণ সমিতির একটি টার্নিং পয়েন্ট। সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকম বাহাউদ্দিন বাহার অন্ধকল্যাণ সমিতির পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেবছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। অধ্যক্ষ আবদুর রউফ সভাপতি, তাইফুর আলম, মফিজুর রহমান বাবলু, প্রদীপ কুমার পাল বাবলু সহসভাপতি, ডা: যোবায়দা হান্নান সাধারণ সম্পাদক হন। যোবায়দা হান্নানের মৃত্যুর পর ডা: আবদুস সেলিম সাধারণ সম্পাদক হন। কোষাধ্যক্ষ হন শাহজাদা গিয়াসউদ্দিন। অধ্যক্ষ আবদুর রউফের মৃত্যুর পর এডভোকেট তাইফুর আলম সভাপতি হন। সকল অব¯’ায় যোবায়দা হান্নান ও এম ওয়ালীউল্লাহর নাম অম্লান হয়ে থাকবে।

১৯৮৫ সালে কুমিল্লা ডায়াবেটিক সমিতি গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তার প্রথম সভাপতি ছিলেন ডা: এম ওয়ালীউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আনোয়ার হোসেন। মেডিকেল কর্মকর্তা হন যোবায়দা হান্নান। প্রথম বছর কুমিল্লা পৌরসভা থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন তখনকার পৌর চেয়ারম্যান আকম বাহাউদ্দিন বাহার। জেলা প্রশাসক আবদুস সালাম সরকারি ভূমি দিয়ে সহায়তা করেন। ফরিদ সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজসহ আমরা ডায়াবেটিক হাসপাতাল ¯’াপনের লক্ষ্যে লটারীর টিকিট বিক্রি করেছিলাম। যোবায়দা হান্নান নেতৃত্ব দিয়ে ডায়াবেটিক হাসপাতাল ¯’াপন করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে ইউসুফ জামিল বাবু সাধারণ সম্পাদক হয়ে হাসপাতালকে গণমুখী করেন। ইউসুফ জামিল বাবুর মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জমির উদ্দিন খান জম্পি। এক্ষেত্রেও ডা: ওয়ালীউল্লাহ প্রায় দুই দশকের অধিককাল সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নিজের নিষ্ঠার পরিচয় দেন। ডায়াবেটিক সমিতির বর্তমান সভাপতি মিসেস মেহের“ন্নেসা বাহার, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা কোরেশি, কোষাধ্যক্ষ প্রবাল শেখর মজুমদার মিঠু। তারা উত্তরাধিকারী। ব্যক্তি নেই। প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনেই গোড়ার দিকের বহুজনের নাম মনে পড়বে। যদি কোনদিন এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস লেখা হয়, গ্রš’ বের হয়, তাহলে বহু নাম আসবে। বহু স্মৃতি পাওয়া যাবে।
লেখক :সাবেক সভাপতি,কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ও সম্পাদক,সাপ্তাহিক অভিবাদন । মোবাইল : ০১৭১৪-৯৮৬৭২১।