সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০


একজন আদর্শ উপাচার্য


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.07.2020

মোঃ খোরশেদ আলম।।

উপাচার্য হলো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ কার্যকর এক দায়িত্ব পালনের পদ যা আচার্য বা রাষ্ট্রপতির পরের পদ।আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর এ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে কর্মরত, বর্তমানে ঢাকার লিয়াঁজু অফিসে চতুর্থ বুনিয়াদ কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে উক্ত ব্যাচের কোর্স সিনিয়র হিসাবে দায়িত্বে আছি।তাই বেরোবি,র উপাচার্য পদের আদ্যপান্ত বিষয়ের গভীরে গিয়ে চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ দেয়া আমার পক্ষে মুশকিল।তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালে পর্যন্ত ছাত্র থাকা অবস্থায় কজন উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের যুক্তি অযুক্তিক দাবির মুখে সরে যেতে হয়েছে। সেই প্রশ্নে আর না যাই।মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট চিরকৃতঙ্গতা জানাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করাতে উপাচার্যের কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে নিজের জানা শোনার সুযোগ আছে। খুব নিকট থেকে দেখা উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার তিন থেকে চার মাস পর ক্লিন ইমেজের একজন অধ্যাপকের অবস্থা করুন থেকে করুনতর হতে থাকে।বেরোবি,র বর্তমান উপাচার্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গতানুগতিক ধারার বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। উপাচার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ঠিক আছে,কিন্তু এই পদে থাকা অবস্থায় বেশি সুবিধা হিসাবে একটি বাড়ি, গাড়ী ও নামজারি ছাড়া আর কি আছে ( উপাচার্য উপাখ্যান, আবুল বায়েস)।একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত একজন হিসাবে আমার কাছে তা সুস্পষ্ট নয়।সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গতানুগতিক ধারায় এই উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন মন্ঞ্চ কে কোন এক বা একাধিক অধ্যাপক গণের লালায়িত কল্পিত স্বপ্ন কে বাস্তবায়নে রুপদেওয়ার অন্তরায়, যে কোন ধরনের ন্যায়নাতীকে তোয়াক্কা না করে। উপাচার্য হওয়ার যে রানওয়ে টা তৈরি হয় তা মূলত উপাচার্য বিরোধী মন্ঞ্চ নাটকের রিয়ারসেল থেকে শুরু হয়,যা বহুলাংশে বিভিন্ন মিডিয়াতে পরীক্ষা মূলক সম্প্রচার হয়। বিশাল পরিসরে মন্ঞায়ন, এডিটিং তারপর দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ক্লিন ইমেজের ঐ অধ্যাপক সেন্সর বোর্ডে কাটা পরে,এই নাটকের পুনরাবৃত্তি মূলক মন্ঞায়নের ব্যবস্থা করা হয় আরেক জন ক্লিন ইমেজের অধ্যাপক কে উপাচার্য পদে দায়িত্ব দিয়ে। এই পুনরাবৃত্তি নাটকের সফল পরিনতিতে এই কথা বলা যায় যে কোন না কোন সময়ে সব উপাচার্য নিরুপায় একজন মানুষ, অনেকাংশে, ঢাল তলোয়ার হীন নিধিরাম সর্দার।তবে এই ধারার ব্যতিক্রমী এই, বেরোবি,র এর আগে আরো দুইজন ক্লিন ইমেজের দুইজন উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, অপ্রিয় হলেও সত্য দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশ প্রথম উপাচার্য হিসাবে জেলে যাওয়ার খ্যাতি অর্জন করেন।দ্বিতীয় জন ও সেই পথে হাঁটেন যার ফলে তিনিও দুদকের মামলায় লড়াই করছেন,মামলা চলমান। ২০১৭ সালের ১৪ জুন, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা, নিয়োগ বাণিজ্য, সততা,দক্ষতা ও আন্তরিকতাহীন উপাচার্যের পদচুতির পর প্রায় এক অচল বিশ্ববিদ্যালয় কে সচল করার জন্য উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান মেধাবী, কর্মদক্ষ,নিরলস পরিশ্রমী এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি সম্পন্ন শিক্ষাবিদ ও বহু টিভি টক শোর আলোচক প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বিএনসিসিও স্যার। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান অর্জনের এক উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে উত্তর বঙ্গের এই বিদ্যাপীঠ কে একটি আদর্শ ও পরিপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেশনজট নিরসন, দক্ষ সেবা প্রদানকারী তৈরির লক্ষ্যে বুনিয়াদ প্রশিক্ষণ প্রদান, ক্যাম্পাস রেডিও চালু,ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা, লাইব্রেরির সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবহন সেবার প্রসার,নারী উন্নয়নে উইমেন পিস ক্যাপে, বন্ধ ক্যাফেটেরিয়া চালু,ওয়াই ফাই ও ভারচুয়াল ক্লাস রুম স্থাপন,নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা কে প্রাধান্য, ডক্টর ওয়াজেদিয়া রিসার্চ ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কে কার্যকর, গবেষণা প্রসারে এমফিল ও পিএইচডি কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করণ,করোনায় অসহায় ছাত্রদের এককালীন আর্থিক সাহায্য প্রদান। বেরোবি, র
পূর্বে উপাচার্য ছিলেন, বর্তমান আছেন,ভবিষ্যতে ও আসবেন। তবে প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বিএনসিসিও স্যার মতো বহুগুণের অধিকারী ও নিরলস পরিশ্রমী উপাচার্য পাওয়া দুষ্কর হবে।তাই আসুন সবাই উপাচার্য বিরোধী মন্ঞ্চের নাটক বন্ধ করে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য মহোদয়ের অর্পিত দায়িত্ব পালনে সহায়ক ভূমিকা পালন করি।একটি বিশ্ববিদ্যালয় সকল অধ্যাপক কে উপাচার্য পদে দায়িত্ব দেওয়া অসম্ভব ও অযুক্তিক। ক্লিন ইমেজের উপাচার্য কে দয়া করে ক্রিটিক্যাল না করি।

লেখক: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর