শনিবার ১৫ অগাস্ট ২০২০


নতুন রূপে সেজেছে শালবন বৌদ্ধ বিহার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.07.2020

মহিউদ্দিন মোল্লা।।
কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর। করোনায় সাধারণ ছুটির পর থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। সেখানে নেই দর্শনার্থীদের কোলাহল। বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর আঙিনায় প্রথম দিকে ঘাস বড় হয়ে সৌন্দর্য পিকে হয়ে আসে। তবে সম্প্রতি ঘাস কেটে, ফুল গাছ লাগিয়ে এর সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। নতুর রূপে সেজেছে শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি করোনার অবসরে এর সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। এটি খুলে দেয়ার ঘোষণার সাথে সাথে তারা কাজ শুরু করতে পারবেন। এতে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে।
সূত্র জানায়,কুমিল্লায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর। ঈদ আর বিভিন্ন উৎসবে শালবন বৌদ্ধ বিহারে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ পাশের রুপবানমুড়া, কোটিলা মুড়ায় আশ-পাশের জেলা ও সারা দেশের দর্শনার্থীরা ভিড় করতো।
কুমিল্লা মহানগর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে শালবন বিহার। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কুমিল্লা আসার জন্য রেল ও সড়কপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থীরা এখানে সহজে আসতে পারেন। এখানে অষ্টম শতকের পুরাকীর্তি রয়েছে। রয়েছে ময়নামতি যাদুঘর। এতে সরগরম থাকতো এই অঞ্চল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর এলাকায় কোন দর্শনার্থীর আনাগোনা নেই। গেইটে তালা মারা। ভেতরের ঘাস কেটে ছোট করা হয়েছে। তাল গাছে বাবুই পাখির দল জিকির তুলেছে। ফুটে আছে বর্ণিল সব ফুল। লাগানো হয়েছে রঙিন পাতা বাহার গাছ।
নগরীর রাজগঞ্জের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসাইন বলেন,শালবন বৌদ্ধ বিহার এলাকাটি অনেক সুন্দর। পুরার্কীতি দেখার সাথে এখানে সবুজের সতেজতায় প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। এবার করোনার কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হলে পর্যটনে কুমিল্লা আরো বেশি সফলতা অর্জন করতে পারবে।
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজারের আবুল কালাম বলেন,শালবন বিহারসহ অন্যান্য প্রতœতাত্ত্বিক স্থান গুলো বেড়ানোর মতো দারুণ জায়গা। এগুলো সুরক্ষিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় আরো বাড়বে।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড.আতাউর রহমান জানান, এখানে সব সময় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকতো। তবে করোনার কারণে শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ফুল ও রঙিন পাতা বাহার গাছ লাগানো হয়েছে। অবসরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে খালি জায়গায় সবজি চাষ করছি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে গেলে এখানে আবার দর্শনার্থীর ঢল নামবে বলে আশা করছি।