বুধবার ১২ অগাস্ট ২০২০


কুবিতে এক বছরেও মেলেনি স্নাতকোত্তরের ফল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.07.2020

কুবি প্রতিনিধি:
স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফল পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার দশ সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এক বছরেও ফল না পাওয়ায় চাকরির আবেদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা কমিটির উদাসীনতায় দীর্ঘ সময় ধরে ফল প্রকাশ না হওয়ায় তাদের সীমানহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০১৩ সালে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম শুরু করলেও তা ২০১৮ সালের শুরুর দিকে শেষ হয়। এরপর স্নাতকোত্তরে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ৩৬ জন শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ৭ম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে একই বছরের জুন মাসে ভাইভার মাধ্যমে সকল একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হয় তাদের। তবে সকল কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্নাতকোত্তরের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় ২ বছর ৭ মাসের সেশনজটে পড়েছে এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফলাফলের জন্য পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানকে অবহিত করেও কোন কাজ হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম একাডেমিক কাউন্সিলে সংশোধিত আইন অনুযায়ী একটি সেমিস্টার শেষ করতে শিক্ষার্থীদের সময় লাগবে ২৬ সপ্তাহ বা ছয় মাস। যার মধ্যে ১৩ সপ্তাহ ক্লাস হবে, চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য থাকবে দুই সপ্তাহ আর চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে তিন সপ্তাহে। আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। তবে ফাইনাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১০ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ১০ সপ্তাহে সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও ইংরেজি বিভাগের এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতয় হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সেমিস্টার ফাইনালের আট সপ্তাহ পর ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও আমাদের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এতে করে আমরা চাকরির বাজারে যেতে পারছি না। অধিকাংশ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তরের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। কিন্তু সার্টিফিকেট না থাকায় আমরা আগে থেকেই বাদ পড়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে এবিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে ফল প্রকাশ করার।
সংশ্লিষ্ট ব্যাচের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। কবে ফল প্রকাশ হবে তা জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোন সদুত্তর পাওয়া যায় না। অমানবিকতার একটা সীমা থাকা প্রয়োজন। ’
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ পরীক্ষা কমিটির কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘সেশনজটের অভিশাপে এমনিতেই আমরা বিপর্যস্ত। তারপরে আবার বছর পেরিয়ে গেলেও ফলাফল হচ্ছে না।বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতির গাফিলতি ও অদূরদর্শীতার জন্যই আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি যে ব্যাচের দায়িত্ব পেয়েছেন, সেই ব্যাচ এমন ঝামেলায় পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এমন অমানবিকতার শেষ কোথায়?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরল করিম চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই। সীমিত আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। যদি শিক্ষকরা ফলাফল তৈরি করে দেয় আমরা প্রকাশ করবো। ইংরেজি বিভাগের ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি জানান, বিভাগ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ফলাফল তৈরির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তা শেষ করে ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমা দিবে বলে জানানো হয় বিভাগ থেকে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের পরীক্ষা কমিটির প্রধান ও বিভাগটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ের উত্তরটা তো আমি আপনার কাছে দিব না। এটা বিভাগের বিষয়, একাডেমিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের সাথে আমার কথা হবে।
ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাস বলেন, আমি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরে দেখি পরীক্ষার এক বছর পরও শিক্ষার্থীরা ফলাফল পাচ্ছে না। অসহায়ের মত ঘুরছে আমার শিক্ষার্থীরা। যতটুকু সম্ভব আমি শীঘ্রই ফলাফল প্রকাশ করতে পরীক্ষা কমিটিকে অনুরোধ করেছি।’
পরীক্ষা কমিটির খামখেয়ালিপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এক বছর ধরে ফলাফল আটকে রাখা এটা তো এক ধরনের অপরাধ। আমি বিষয়টা জানার পর উপাচার্যের সাথে কথা বলে বিভাগীয় প্রধানকে বলেছি, ১৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে । আর তাছাড়া আমাদের অফিসের কার্যক্রম তো চলছে। এ বন্ধের ভিতরেই আমরা ওই একই বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করেছি।