বুধবার ১২ অগাস্ট ২০২০


লালমাই উপজেলা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.07.2020

স্টাফ রিপোর্টার ।।
করোনা আক্রান্ত লালমাই উপজেলার বাগমারা ২০ শয্যা হাসপাতালের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো ) রবিউল আলমকে ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ তার চেম্বারে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে সাটার বন্ধ করে মারধরে চেষ্টা করে। ফরহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী বলে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার বিকালে বাগমারা বাজারস্থ বাগমারা ২০ শয্যা হাসপাতালের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো ) রবিউল আলম তার ব্যক্তিগত চেম্বার মেসার্স তানহা মেডিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপসর্গ কমে যাওয়ায় ১ম নমুনা দেওয়ার ৫/৬ দিন পর থেকেই অফিসিয়ালি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা স্যাকমো রবিউল আলম ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করেন। ১২ জুলাই বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন তার চেম্বারে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চান। ওই সময় স্যাকমো রবিউল ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদের শার্টের কলারে ধরে উল্টো প্রশ্ন করেন, তুই এটা জানার কে? এনিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে তার হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তানহা মেডিকেলের কর্মচারীরা চেম্বারের সাটার বন্ধ করে ছাত্রলীগের কর্মীদের আটক করে মারধর করতে চাইলে ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রবিউলকে মারধর করে। পরে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে সার্টার খুলে দিলে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাইর করে দেয়।
এঘটনায় রবিউল আলমের বড় ভাই আদম সফি উল্যাহ বাদী হয়ে মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগে বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেনসহ দুতিয়াপুর ও দত্তপুর গ্রামের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লালমাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি সব সময় মেসার্স তানহা মেডিকেলে থেকে ওষুধ কিনি, যখন জানলাম এখানে ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছে ,আমি তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলায় আমার শার্টের কলারে ধরে উল্টো প্রশ্ন করেন, তুই এটা জানার কে? আমাকে মারার জন্য দোকানের সার্টার বন্ধ করে দেয়,পরে আমাদের সাথে হাতাহাতি হয়,এ ঘটনাকে কেন্দ্র আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমাকে সন্ত্রাসী বলে অপপ্রচার চালায়।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রবিউল আলমকে মারধর ও ভাংচুরের ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে স্যাকমো রবিউল আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।