শনিবার ৮ অগাস্ট ২০২০


নগরীর ছাদ-বেলকনিতে সবুজের হাসি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.07.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীর ছাদ ও বেলকনি গুলো সবুজ ভরে উঠছে। ছাদে ও বেলকনিতে বিভিন্ন ফুল ও ফলের সাথে চাষ হচ্ছে লাউ, কুমড়ো ও শিমসহ বিভিন্ন সবজি। এক সময় সব ছাদ-বেলকনিতে ফুটবে গোলাপ, রজনীগন্ধা ও বেলী। চোখ জুড়াবে ফুলের সৌন্দর্যে,খাদ্য তালিকায় যোগ হবে নিজ বাগানের তাজা শাক সবজি ও ফল। এমন স্বপ্ন নিয়েই পথ চলা শুরু ফেসবুক ভিত্তিক ছাদবাগানীদের সংগঠন কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটি। সবুজে থাকুন, সবুজে বাঁচুন এই স্লোগান নিয়ে ২০১৭সালের ২৬ আগস্ট থেকে পথচলা শুরু সংগঠনটি। শুরুতে সদস্য সংখ্যা দুইশ’র মতো, বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৭হাজার। ছাদ বাগানীদের বাগানের নানান সমস্যায় পরামর্শ, নিজেদের মাঝে গাছের আদান প্রদান করে থাকে সংগঠনটি। নতুন বাগানী সৃষ্টির প্রয়াসে প্রতি মাসেই নতুন বাগানীদের মাঝে সবুজ উপহার দেয়া হয়।
সোসাইটির সদস্য ডা. নার্গিস আক্তার বাগান করছেন প্রায় ২০ বছর। নগরীর ঠাঁকুরপাড়ায় ছাদে গড়ে তুলেছেন বাগান। তিনি জানান, দিনভর অফিস, চেম্বার শেষ করে যত ব্যস্ততা থাকুক রাতে ফিরেও বাগান দেখাশোনা করেন। নিজের পারিবারিক চাহিদার সব্জির প্রায় সবটাই মিটে যায় বাগান থেকে। ছবি তুলে সেসব তিনি পোস্ট করেন কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটির পেইজে। সবাইকে বাগান করতে বলব৷ বাসায় অলস বসে না থেকে গার্ডেনার্স সোসাইটির সহযোগিতায় বাগান করা উচিত।
শহরের ঢুলিপাড়ায় বাগান সালমা আমীনের। তিনি জানান, কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আমার বাগানটির কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও ছাদ কৃষির সকল পরামর্শ খুব সহজেই পেয়ে যাই। প্রায় ১৫০’র উপর নানা ফল ও ফুল গাছ রয়েছে বাগানে। নিজের পরিবারের চাহিদা বাগান থেকেই সিংহভাগ মিটে যায়।
শুধু শহর নয়, কুমিল্লা জেলার প্রায় উপজেলার বাগানীরাই এর সদস্য। লাকসামের বাসিন্দা রবিন খাইরুল আনাম জানান, কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটির একজন সদস্য তিনি। এত সবুজ উপহার খুব কম প্ল্যাটফর্ম দিয়ে থাকে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন ডা. আবু নাঈম কুমিল্লা সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। তাঁর বাগানে পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে। দেশ বিদেশের অর্কিড, দুষ্প্রাপ্য গাছ, লতানো গাছ, ইনডোরের গাছ, ফল গাছ দিয়ে নিজের বাড়িটি সাজিয়েছেন। তিনি জানান, তিনিসহ বর্তমানে সংগঠনটির এডমিন মডারেটর আছেন আরো ছয়জন। ডা.তালেয়া চৌধুরী, তাওহিদা আক্তার, রায়হান আবেদীন, শারমিন আক্তার, কামরুন নাহার মিমি, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দীনসহ একঝাঁক উদ্যোমী বাগানী সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, চিকিৎসা বিদ্যা যেমন মানবিক হতে শিখায় তেমনি বাগান মানুষকে মানবিক করে গড়ে তোলে। বাগান করা কেবল শখ নয় প্রয়োজন বটে। যারা কুমিল্লায় বাগান করি, নিজেদের পরিচিত হওয়া, বাগান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, গাছ অদলবদল করার জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিলো।
প্রতিবছর দুই থেকে তিনটি ইভেন্টের আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি। ইভেন্ট বলতে মূলত বুঝানো হয়, বাগানীদের একত্রিত হয়ে নিজেদের মাঝে গাছ আদান প্রদান। যা এক প্রকারের মিলন মেলা। সংগঠনের এডমিন প্যানেল এবং কিছু সজ্জন সবুজ প্রেমী অভিভাবকদের সহযোগিতায় বাগানোদের মাঝে ফুল, ফল, ঔষধি গাছ এবং শস্যবীজ বিনামূল্যে উপহার দেয়া হয়। এছাড়াও জেলা কৃষি বিভাগ, জেলা প্রশাসনের সম্পৃক্ততায় কুমিল্লায় ছাদকৃষি কর্মশালা আয়োজন করেছে সংগঠনটি। বাগানীদের উৎসাহ দিতে সংগঠনটি আয়োজন করে থাকে নতুন বাগানী প্রতিযোগিতা, সেরা বাগানী প্রতিযোগিতা, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা। বছরজুড়ে নানা আয়োজনে জমজমাট থাকে গ্রুপটির দেয়াল।
কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম জানান,অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির উদ্যোগ সুন্দর। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে কুমিল্লা নগরীর ছাদ-বেলকনি সবুজে ভরে উঠুক এই প্রত্যাশা করছি।