শনিবার ৮ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কিস্তি নিয়ে দিশেহারা কুমিল্লার নিম্ন আয়ের মানুষ


কিস্তি নিয়ে দিশেহারা কুমিল্লার নিম্ন আয়ের মানুষ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.07.2020

মোহাম্মদ শরীফ।।
রিক্সা ড্রাইভার মতিন(ছদ্দনাম)। করোনা পূর্বে তার প্রতিদিন আয় ছিল ৫ থেকে ৬শ’ টাকা। করোনার কারণে তা দাঁড়িয়েছে ২’শ থেকে আড়াইশ’ টাকা। কোনো কোনো দিন তা আবার একশোর নিচেও যায়। তিনি ঋণ নিয়েছিলেন দু’টি এনজিও থেকে। সপ্তাহে তাকে কিস্তি বাবদ পরিশোধ করতে হয় ১৬ শ’ টাকা। কিস্তি চালাতে তাকে পড়তে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তিতে। কিস্তি আদায়ে চাপ না প্রয়োগ করতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি(এমআরএ) নির্দেশনা থাকলেও তা অনেকটাই মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বি-পাড়া উপজেলার একজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা জানান, ‘লোন অফিসারেরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেন। কিস্তি না নিয়ে তু যাচ্ছেন না’। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এগার গ্রাম বাজারের ১০ জন রিক্সা ড্রাইভারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রত্যেকেরই কিস্তি আছে; এই সময়ে তা পরিশোধও করতে হচ্ছে। একই অবস্থা ভ্যান, অটো, সিএনজি চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষদের।
ভ্যান চালক বিল্লাল হোসেন জানান, ‘ বাজার খরচ না করে হলেও কিস্তি চালাই। কিস্তিতু আর মাফ নাই’। আবার এসব কিস্তি চালাতে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন ‘ এখন তু ভাড়া নাই। অনেক সময় ধার করে টাকা এনে কিস্তি দেই’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুরাদনগর উপজেলার একজন এনজিও কর্মী জানান, ‘অফিসের নির্দেশে আমাদের গ্রাহকের কাছে যেতে হচ্ছে। কিস্তি আদায় করতে হচ্ছে’।
বি-পাড়া উপজেলা আশা এনজিও অফিসার নাজমুল হাসান জানান, ‘আমরা কিস্তির জন্য আগের মতো চাপ দিচ্ছি না। যারা দিচ্ছেন তাদের থেকে নিচ্ছি’।
এনজিও সংস্থা ‘এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, ‘ সরকারি নির্দেশনা ঋণ আদায়ে চাপ দেওয়া যাবে না। নির্দেশনা মেনে ইচ্ছে করে কেউ ঋণ দিলেই আমরা তা গ্রহণ করছি’।
বি-পাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা জানান, ‘কিস্তি আদায়ে চাপ না প্রয়োগে বি-পাড়ার সকল এনজিও শাখা সংস্থাকে নির্দশনা দেওয়া আছে। সরকারি নির্দেশনা না মানার অভিযোগ পেলে এনজিও‘র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, কুমিল্লায় আশা, ব্রাক, আম্বালা ও ব্যুরোসহ শতাধিক এনজিও সংগঠন ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে।