মঙ্গল্বার ১১ অগাস্ট ২০২০


মেঘনার করালগ্রাসে সর্বস্বান্ত শতশত পরিবার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.07.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়ে মেঘনা নদীতে প্রতিবছরের মতো এবারও চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হয়েছে। সহায় সম্পদ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। মেঘনার তীব্র গ্রোতের কারণে ইতোমধ্যে প্রাচীন জনপদ চালতলপাড় ইউনিয়নের চকবাজার এলাকার শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই এ ভাঙনের ধারা অব্যাহত থাকায় নদীর তীরবর্তী মানুষগুলোর দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্তরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, গত ২০১৭ সালের শুরু থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বশেষ উত্তরের উপজেলা নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়ে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে বছর তিনেক যাবত আগ্রাসী মেঘনার তীব্র ঢেউয়ের করাল গ্রাস আর গ্রোতের কারণে ভাঙনের মাত্রা যেন বেড়েই চলছে । বিলীন হচ্ছে বাজারসহ বসতবাড়ি। চোখের সামনে জীবনের শেষ সম্বলটুকু নদী গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
নদীপাড়ের বাসিন্দা গুলজাহান বেগম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাঙনের স্থান দেখিয়ে বলেন, ওই স্থানে আমার বসতঘর ছিল। হঠাৎ করে নদী আমার স্বপ্নের সংসারটারে তছনছ কইরা দিল। দুটি ঘর মুহূর্তেই নিয়ে যায় রাক্ষুসী নদী।
৮ ছেলে সন্তান নিয়ে গুল জাহান বেগম এখন ভিটেমাটি ছাড়া। ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশি জুলহাস মিয়ার বাড়িতে। গুলজাহান আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী ভাঙ্গারী ব্যবসা করেন। তার মধ্যে বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে গেল নদী। এখন ৮ সন্তান নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছি না। আমাদের খবর কেউ নেয় না। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।
একই এলাকার নদী ভাঙনের শিকার মোর্শেদা বেগম জানায়, তার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। সেখানে তিনি কষ্টে আছেন। যার কারণে ঠিক মতো বাড়িতে টাকা পয়সা পাঠাতে পারেন না। এর মধ্যে সহায় সম্বল বলতে যে বসতভিটা ছিল তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি এখন পরিববার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। অসহায় অবস্থায় থাকলেও কেউ খোঁজ খবর নেন না। চাতলপাড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ফরিদ মিয়া জানান, চাতলপাড়ের বিলের পাড়ে আমার ১০ শতাংশ জমি ছিল। এখন তা কেবলই ইতিহাস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী(অতিরিক্ত দায়িত্ব) রঞ্জনকুমার দাস জানান, নদীর ভাঙনরোধে বর্তমানে প্রথম ধাপে ২০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে জিও ব্যাগে করে বালি ফেলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩০ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প উপরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২ কিলোমিটারের বেশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ৮৪০ মিটার নদী খননের জন্যে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। মেঘনা, খাগালিয়া ও বেমালিয়া এই তিন নদীর মোহনার কারণে চাতলপাড় চকবাজার এলাকায় পানির গ্রোতের তীব্রতা বেড়েছে।