মঙ্গল্বার ১১ অগাস্ট ২০২০


‘রাজা-বাদশা’য় তুমুল আগ্রহ নাঙ্গলকোটে!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.07.2020

তাজুল ইসলাম-নাঙ্গলকোট ।।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নাঙ্গলকোটের গরুর খামারিরা তাদের লালন-পালনকৃত গরু বাজারে বিক্রি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে গরুর বাজারের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গরু বাজারগুলোতে কোরবানির গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। নাঙ্গলকোটের রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের দাসনাইপাড়া গ্রামের খামারি মহসিনের লালনকৃত বাদশা এবং রাজা মিয়া নামে পিজিয়ান জাতের দুইটি ষাঁড় গরু এলাকায় সাড়া জাগিয়েছে। গত তিন বছর থেকে নিজের ডেইরি খামারের উৎপাদিত বাছুর থেকে গরু দুইটি লালন-পালন করে বিক্রির উপযোগী করে তোলেন। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারের মাধ্যমে গরুগুলো বড় করেন। গরু মোটাতাজাকরণে কোন প্রকার মেয়াদী ইনজেকশান, স্টরয়েড ওষুধসহ অন্য কোন প্রকার ওষুধ সেবন করাননি। গরুর খাবার হিসেবে নিপিয়ার জাতের কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, ডালের চামড়া, চিটা, ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন দুইটি ষাঁড়ের পিছনে দুই বেলা প্রায় ৪৮ কেজি খাবার খাওয়ানো হয়। শুধুমাত্র খুড়া ও তড়কা রোগের জন্য ভ্যাকসিন ও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয়। একজন পশু চিকিৎসকের নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি তিল-তিল করে গরুগুলো বড় করেন। বাদশার ওজন প্রায় ৮শ কেজি ও রাজার ওজন প্রায় ৭শ কেজি বলে মহসিন জানান।
মহসিন জানান, নিজের ডেইরী খামারের পিজিয়ান জাতের গাভীর বাচ্চা থেকে এই দুটি ষাঁড়কে লালল-পালন করেন। তিনি বাদশার মিয়ার দাম ৬ লাখ ও রাজার মিয়ার দাম ৫ লাখ টাকা হাঁকান। ক্রেতাদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে দাম কম বেশি হতে পারে বলে মহসিন জানান। মহসিন আরো জানান, প্রতিটি ষাঁড়ের সাথে ক্রেতাদের উপহার হিসেবে দুইটি খাসি উপহার দেবেন। তিনি ক্রেতাদের সুবিধার্থে ঈদের দিন পর্যন্ত নিজ খরচে ষাঁড় দুইটি নিজের বাড়িতে রাখবেন বলে জানান। ক্রেতারা ঈদের দিন তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গরুর ভালো দাম পাওয়া নিয়ে হতাশ থাকলেও মহসিন তার গরু ভালো দামে বিক্রি নিয়ে আশাবাদী। মহসিনের গত প্রায় ১৫ বছর থেকে ডেইরি ফার্ম, পোল্টি, মৎস্য চাষ ও গরু মোটাতাজাকরণের সমন্বিত খামারির মাধ্যমে একজন সফল খামারি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি গড়ে উঠে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ (সম্প্রসারণ) কর্মকর্তা হাছান আহমেদ বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় ৫০ জন খামারিকে গরু মোটাতাজাকরণের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। খামারিদের ভিটামিন, কৃমির ওষুধসহ খাবারের ম্যানুয়েল দেয়া হয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ১শ ৩৩জন খামারিসহ মৌসুমি গরু বিক্রেতাদের মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার গরু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।