মঙ্গল্বার ১১ অগাস্ট ২০২০


মেয়ের মতো কোনো জিনিস আছে গো বাজান : তনুর মা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.07.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকা-ের ৫২মাস পূর্ণ হয়েছে সোমবার। দীর্ঘ এ সময়ে হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তনুর মা-বাবাসহ পুরো পরিবার। করোনা সংকটের প্রায় দেড় বছর পূর্বে সিআইডি থেকে তনুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বর্তমানে কেউ খোঁজখবর রাখছে না বলে অভিযোগ করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। সে সাথে বিচার পাওয়ার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গরিব বলে বিচার পাইতাম না বাজান। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বিচার দিতাম। কেউ সে সুযোগটা করে দেয় না। মেয়ের মতো কোনো জিনিস আছে গো বাজান। ঘরের যে দিকে তাকাই, শুধু মেয়ের স্মৃতি আর মেয়ের স্মৃতি। রোজার ঈদের সেমাই এখনো রান্না করে খাওয়া হয়নি। মেয়ে থাকলে সব রান্না হতো, খাওয়া হতো। সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদের এক সপ্তাহ আগে পিয়াজ, রসুন ও আদা কিনে ব্লেন্ডার করে রাখতো। এখন আমাগো ঈদ আসে ঈদ যায়,এখন ঈদের বাতাস আর গায়ে লাগে না। তনুকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী দুজনে অসুস্থ হয়ে গেছি। এখন চোখে কম দেখি। আমাদের কান্না কেউ শুনবে না। গতকাল রাতে (রবিবার) একবার মারা যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। হয়তো যেকোনো সময় মারা যাবো। মারা যাওয়ার আগে মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলে আত্মা শান্তি পেতো। ’
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, তদন্তে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু এখন বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। হত্যাকা-ের পরদিন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন। এই হত্যাকা-ের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজসহ পুরো বাংলাদেশ। গত ৫২মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চারবার বদল হয়। দীর্ঘ সময়েও উন্মোচিত হয়নি হত্যাকা-ের রহস্য।